প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নানা অনিয়ম ও প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে তোলপাড় ভারত। দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ ও বিরোধীদের টানা পদত্যাগের দাবির মুখে অবশেষে পদত্যাগ করলেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। ২৫ জুলাই, শনিবার তিনি নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানান।
সামাজিক মাধ্যম 'এক্স'-এ শেয়ার করা এক চিঠিতে পদত্যাগের কথা জানিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান উল্লেখ করেন, এই বিষয়টি তাঁর কাছে কখনো ‘ব্যক্তিগত মর্যাদার লড়াই’ ছিল না। তিনি শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও দায়িত্ববোধ থেকেই পদত্যাগের এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পুরো বিবৃতি
'আমার তরুণ বন্ধুরা, বিগত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে আমি শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং শিক্ষাসংস্কারের কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেছি। আমি সবসময় বিশ্বাস করে এসেছি যে, একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দূরদর্শী শিক্ষাব্যবস্থাই হলো একটি সমৃদ্ধ জাতির মূল ভিত্তি।
আমি এ দেশের তরুণ প্রজন্মের আশা-আকাঙ্ক্ষা, আবেগ এবং ন্যায্য প্রত্যাশাকে গভীর শ্রদ্ধা জানাই। ভারতের যুবসমাজের স্বপ্নপূরণ করা আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের একটি নৈতিক অঙ্গীকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশকে সেবা করার এই সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি তাঁর প্রতি আমার গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
তবে, ২০২৬ সালের ৩ মে অনুষ্ঠিত ‘নিট-ইউজি’ পরীক্ষায় কিছু অনিয়ম সামনে আসে। বিষয়টি পাওয়া মাত্রই ভারত সরকার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব সিবিআই-এর (CBI) হাতে তুলে দেয়, পরীক্ষাটি বাতিল করে এবং পুনরায় পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করে। পাশাপাশি, আগামী বছর থেকে এই পরীক্ষাটি কম্পিউটার-ভিত্তিক পরীক্ষা বা সিবিটি পদ্ধতিতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই পুরো সময়জুড়ে আমাদের মূল অগ্রাধিকার ছিল ২০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর পরীক্ষা যেন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। ভারত সরকার, রাজ্য সরকারসমূহ এবং বিশেষভাবে জেলা প্রশাসনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত 'হোল-অফ-গভর্নমেন্ট' (সমগ্র সরকার) পদ্ধতির মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সহযোগিতায় ২০২৬ সালের ২১ জুন পরীক্ষাটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
প্রথম দিন থেকেই আমি এর পূর্ণ দায়ভার নিয়েছি এবং পরিস্থিতি থেকে কখনো মুখ ফিরিয়ে নেইনি। কোনো ‘পরীক্ষা মাফিয়া’র কারণে যেন কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট না হয় কিংবা কারও ওপর কোনো অন্যায় না ঘটে, এ ব্যাপারে আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলাম'।
