ফিফা বিশ্বকাপের ট্রফি কার ঘরে যাচ্ছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন তুমুল উন্মাদনা, ঠিক তখনই এক বিস্ফোরক দাবি করে ফুটবল পাড়ায় শোরগোল ফেলে দিয়েছেন ফরাসি মিডফিল্ডার পল পগবা। ২০১৮ সালে ফ্রান্সের বিশ্বজয়ের অন্যতম এই নায়ক স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এবারের বিশ্বকাপে খেলতে নামা ফ্রান্সের বর্তমান দলটি ২০১৮ সালের ট্রফি জয়ী দলের চেয়েও ঢের বেশি শক্তিশালী এবং প্রতিভাবান!
স্পোর্টস নেটওয়ার্ক ইএসপিএন’কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে মোনাকোর এই মিডফিল্ডার বাজি ধরে বলেছেন, ২০২২ সালের ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হলেও, এবার কিলিয়ান এমবাপের ফ্রান্সই আবার বিশ্বসেরার মুকুট মাথায় তুলবে।
পগবা বেশ চটকদার ভঙ্গিতে বলেন, হ্যাঁ, আমার মনে হয় সবাই এখন ফ্রান্সকেই হট ফেভারিট ভাবছে। আর তাদের ফেভারিট ভাবাটাই স্বাভাবিক, কারণ এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়রা ফরাসি ড্রেসিংরুমেই আছেন। তবে শুধু নামী বা সেরা খেলোয়াড় থাকলেই তো আর বিশ্বকাপ জেতা যায় না, এবার তাদের ওপর চাপও থাকবে অনেক বেশি। তাই তাদের পারফরম্যান্সের মান একদম চূড়ায় ধরে রাখতে হবে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের সেই ঐতিহাসিক ফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ম্যাচে ফ্রান্সের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেছিলেন স্বয়ং পগবা।

২০১৮ সালের সেই সোনার হরিণ ছোঁয়া ফরাসি স্কোয়াডে কিলিয়ান এমবাপে, এনগোলো কান্তে কিংবা ওসমানে দেম্বেলের মতো যে তারকারা ছিলেন, তাঁরা তো এবার আছেনই; সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন উইলিয়াম সালিবা, মাইকেল অলিসে এবং রায়ান চেরকির মতো একঝাঁক নতুন বিশ্বমানের তরুণ তুর্কি। দুই প্রজন্মের এই তুলনা টেনে পগবা অকপটে স্বীকার করেন, ব্যক্তিগত প্রতিভা, দক্ষতা এবং সব দিক বিচার করলে আমি বলব, বর্তমান দলটি আমাদের ২০১৮ সালের দলের চেয়েও অনেক বেশি তুখড়। আশা করি, এই অতিমানবীয় ট্যালেন্টই এবার তাদের হাতে বিশ্বকাপ এনে দেবে।
সাক্ষাৎকারে পগবা তাঁর প্রাক্তন সতীর্থ ও ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপেকে নিয়ে এক হাত নিয়েছেন সমালোচকদের। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে কোনো বড় ট্রফি বা সিলভারওয়্যার জিততে না পারায় এমবাপের ফর্ম নিয়ে যে কানাঘুষো চলছে, তা এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন পগবা।
বেশ রসিয়ে পগবা বলেন, লোকে বলছে রিয়াল মাদ্রিদে নাকি এমবাপের একটা ‘কঠিন এবং ব্যর্থ’ মরশুম কেটেছে! আপনারা কি ভাবতে পারেন, ওর এই তথাকথিত ‘ব্যর্থ মৌসুম’ বিশ্বের অন্য যে কোনো স্ট্রাইকারের ক্যারিয়ারের সেরা মরশুম হতে পারত? বছরে ৪০টি গোল করার পরও যদি বলা হয় মৌসুমটি কঠিন ছিল, তবে আমার আর কিছু বলার নেই। আমার চোখে এটা কোনোভাবেই খারাপ মৌসুম নয়!
এমবাপের ওপর বাড়তি কোনো চাপ কাজ করবে কিনা, এমন প্রশ্ন হেসেই উড়িয়ে দেন পগবা। তিনি মনে করিয়ে দেন, এমবাপের অভিজ্ঞতা এখন অনেক বেশি এবং বুক ঠুকে বলেন, এই প্রজন্মের সেরা স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপে। ব্যস, এখানেই গল্প শেষ! পগবার এই আত্মবিশ্বাসী বাণী ফরাসি শিবিরে কতটা টনিক হিসেবে কাজ করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু দক্ষিণ কোরিয়ার
সিরাজগঞ্জে আলোচনায় লিটন সরকারের ‘ব্রাজিল বাড়ি’