কলকাতার পার্কস্ট্রিট ও নিউ মার্কেট সংলগ্ন এলাকার হোটেলে ভয়াবহ আগুনে ৮ জন বাংলাদেশি নাগরিকসহ মোট ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। আগের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের দুর্নীতি, চরম উদাসীনতা ও ঢিলেঢালা অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাকেই এই ভয়াবহ প্রাণহানির মূল কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিরোধী বাম নেতৃত্ব। মর্মান্তিক এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেয়া এক বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু শোকপ্রকাশের পাশাপাশি পূর্বের সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বছরের পর বছর রাজ্য সরকারের উদাসীনতার মাশুল গুণতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ন্যূনতম অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকা সত্ত্বেও একের পর এক হোটেল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এবং কোনো নিয়মিত 'ফায়ার অডিট' করা হয়নি।

পূর্বতন তৃণমূল সরকারের রেখে যাওয়া এসব প্রশাসনিক গলদ ও দুর্নীতির চিত্র এখন নতুন করে সামাল দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। সেই সাথে ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ন্যায়বিচার পাবে বলে আশ্বাস নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে যান সিপিআইএম নেতা মোহাম্মদ সেলিম, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এবং শতরূপ ঘোষ। তাঁরা অভিযোগ করেন, তৃণমূল জমানার যে দুর্নীতির কারণে আজ এই ভয়াবহ পরিণতি, বর্তমান বিজেপি সরকারও তা ঠিকমতো সামাল দিতে না পেরে একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে।
অন্যদিকে, সাধারণ পর্যটক এবং স্থানীয়দের ক্ষোভও চরম রূপ নিয়েছে। কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে ৫০০ টাকার মধ্যে অপরিসর, ঘুপচি ঘর ও সরু সিঁড়ির অসংখ্য ছোট ছোট হোটেল গড়ে উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে অবৈধভাবে টাকা দিয়ে অগ্নিনিরাপত্তা পরিকাঠামোর নজরদারি পুরোপুরি বন্ধ রাখা হতো, যার খেসারত দিতে হলো নিরীহ ৯ জন প্রাণকে।
