হেক্সা বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফির স্বপ্ন নিয়ে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই টাইমস স্কয়ারে সাম্বা ঝড়ে নিউইয়র্ক কাঁপিয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান ভক্তরা। কিন্তু নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আসল মঞ্চে নামতেই ভক্তদের সেই উন্মাদনায় পানি ঢেলে দিল মরক্কো। ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচেই আফ্রিকার সিংহদের বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট হারিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
রিয়াল মাদ্রিদের প্রাক্তন মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তির অধীনে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচেই ধাক্কা খেল সেলেসাওরা। তবে ধাক্কা সামলে ব্রাজিলকে নিশ্চিত লজ্জার হাত থেকে বাঁচিয়েছেন দলের বর্তমান পোস্টার বয় ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
ম্যাচের শুরু থেকেই কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা ব্রাজিলকে এক ইঞ্চি জমিও ছেড়ে দেবে না। ম্যাচের ২০ মিনিটেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে দিয়ে মরক্কোকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন সাইবারি। গোল হজম করে দিশেহারা ব্রাজিল ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে।

অবশেষে ৩২ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ডি-বক্সের বাইরে থেকে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এক অবিশ্বাস্য, চোখধাঁধানো বুলেট গতির শটে মরক্কোর জাল কাঁপিয়ে ম্যাচ সমতায় ফেরান। পরে জানা যায়, ভিনির সেই কামানের গোলার মতো শটটির গতি ছিল ঘণ্টায় ১১৪ কিলোমিটার! এই এক গোলেই মান বাঁচে পাঁচবারের বিশ্বজয়ীদের।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামেন সেলেসাওদের ইতালিয়ান বস কার্লো আনচেলত্তি। প্রথমার্ধে দলের জঘন্য পারফরম্যান্সের কথা অকপটে স্বীকার করে তিনি বলেন, আমাদের প্রথমার্ধটা মোটেও ভালো কাটেনি। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের একটা বাড়তি স্নায়ুচাপ ও উদ্বেগ থাকে, ছেলেরা কিছুটা নার্ভাস ছিল। আমাদের মাঝমাঠে ভারসাম্যের অভাব ছিল এবং আমরা ঘন ঘন বলের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছিলাম। তবে বিরতির পর ছেলেরা কামব্যাক করেছে।
এই ড্রয়ে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ মিশন মোটেও ঝুঁকির মুখে পড়েনি দাবি করে আনচেলত্তি হুঙ্কার ছেড়ে বলেন, আমরা এই ফলাফল মেনে নিচ্ছি, এটা খুব একটা খারাপও নয়। আমরা পরের ম্যাচের জন্য লড়াই করব। মনে রাখবেন, বিশ্বকাপের মতো দীর্ঘ টুর্নামেন্ট প্রথম ম্যাচেই জিতে নেয়া যায় না, এটা পুরো প্রতিযোগিতার পরিক্রমায় অর্জিত হয়।
মরক্কোর জমাট রক্ষণ ও শারীরিক ফুটবলের বিরুদ্ধে সুবিধা করতে না পারায় আগামী ম্যাচগুলোতে প্রতিপক্ষের শক্তি বুঝে ফর্মেশনে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন আনচেলত্তি।
মরক্কো ম্যাচেই তিনি একঝাঁক পরিবর্তন এনেছিলেন, কাসেমিরোর জায়গায় ফাবিনহো, ইবানিয়েসের বদলে দানিলো, ইগর থিয়াগোর পরিবর্তে মাথেউস কুনিয়া, লুকাস পাকেতার জায়গায় লুইজ হেনরিকে এবং ব্রুনো গিমারায়েসের বদলে দানিলো সান্তোসকে মাঠে নামিয়েছিলেন তিনি।

তবে বিস্ময়করভাবে রিয়ালের বিস্ময়বালক এন্ড্রিককে পুরো ৯০ মিনিট বেঞ্চেই বসিয়ে রাখেন এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড। চোট কাটিয়ে নেইমার ফিরলে পরের ম্যাচে দলের চেহারা পুরোপুরি বদলে যাবে বলেই আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
এই ড্রয়ের ফলে সি-গ্রুপে ব্রাজিল এবং মরক্কো, উভয় দলই ১টি করে পয়েন্ট নিয়ে সন্তুষ্ট থাকল। তবে এই সুযোগে গ্রুপে ছড়ি ঘোরাতে শুরু করেছে ব্রিটিশ দল স্কটল্যান্ড। বোস্টনে অনুষ্ঠিত গ্রুপের অন্য ম্যাচে জন ম্যাকগিনের প্রথমার্ধের গোলে পুঁচকে হাইতিকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের একক শীর্ষস্থান দখল করেছে স্কটিশরা। ১ পয়েন্ট নিয়ে ব্রাজিল ও মরক্কো যৌথভাবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে এবং কোনো পয়েন্ট না পেয়ে টেবিলের তলানিতে পড়ে আছে হাইতি।
পয়েন্ট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যাওয়া ব্রাজিল আগামী শুক্রবার ফিলাডেলফিয়ার মাঠে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশন নিয়ে মাঠে নামবে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ টেবিলের তলানির দল হাইতি। দেখার বিষয়, আনচেলত্তির ফুটবল মগজ আর এন্ড্রিক-ভিনিদের সাম্বা ঝড় পরের ম্যাচে ব্রাজিলকে জয়ের সরণিতে ফেরাতে পারে কি না!
