মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের মহাকাব্যিক জয় নিয়ে মাঠের উত্তেজনা এবার রূপ নিয়েছে অফিশিয়াল যুদ্ধে! শেষ ১৬-এর ম্যাচে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও নাটকীয়ভাবে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর, ম্যাচ পরিচালনাকারী ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়রের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
রেফারিংয়ের এমন ‘অবিচার’ নিয়ে তারা কোনোভাবেই চুপ থাকবে না বলে বুধবার সকালে এক কড়া বিবৃতিতে সোজা জানিয়ে দিয়েছে। আটলান্টা ফ্যালকন্সের ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের ইনজুরি টাইমে (৯২ মিনিটে) যখন এনজো ফার্নান্দেজ আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলটি করেন, তখনই রণক্ষেত্রে পরিণত হয় মাঠ। গোলটি হতেই আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা মিশরীয় বেঞ্চের সামনে গিয়ে বুনো উল্লাসে মাতলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মিশরীয়রা। 
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে মিশরের গোলরক্ষক কোচ সাফান এলসাঘিরকে ফরাসি রেফারির দিকে তেড়ে যেতে দেখে বাকিরা তাকে টেনেহিঁচড়ে আটকে রাখেন। রেফারি তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান এবং প্রতিবাদী মিশরীয় ডাগআউটে একের পর এক হলুদ কার্ডের বন্যা বয়ে দেন।
মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাদের বিবৃতিতে সরাসরি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার না করার দিকে আঙুল তুলেছে। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে মোস্তফা জিকোর গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর, মিশরের আরও একটি গোল ভিএআর-এর মাধ্যমে বাতিল করা হয়।
সবচেয়ে বড় বিতর্ক ওঠে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলটি নিয়ে। মিশরীয়দের দাবি, এনজোর গোলের ঠিক আগের মুহূর্তে আর্জেন্টিনার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার স্পষ্ট ফাউল করেছিলেন, যা রেফারি তো দেখেনইনি, এমনকি ভিএআর চেক করার প্রয়োজনও মনে করেননি।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বকাপের মতো এত বড় মঞ্চে যেখানে সর্বোচ্চ মানের রেফারিং আশা করা হয়, সেখানে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যা ম্যাচের ফলকে সরাসরি প্রভাবিত করেছে। মাঠে যা ঘটেছে তা আমাদের খেলোয়াড়, স্টাফ ও কোটি কোটি সমর্থকের মনে চরম হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
বিবৃতিতেই শেষ নয়, ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে বোমা ফাটিয়েছেন মিশরের কোচ হোসাম হাসান। ফিফা এবং রেফারি মিলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসিকে জোর করে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখছে বলে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, আমরা চ্যাম্পিয়নদের চেয়ে সবদিকেই ভালো খেলেছি। কিন্তু ম্যাচের ফলাফল মাঠের ভেতরের এবং মাঠের বাইরের কিছু ‘অদৃশ্য হাত’ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। সম্ভবত তারা চায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা আসরে টিকে থাকুক। সম্ভবত তারা চায় মেসি শেষ পর্যন্ত খেলুক।

ক্ষোভে-দুঃখে বিশ্বকাপ বয়কটের ঘোষণা দিয়ে হাসান আরও বলেন, আমি কথা দিচ্ছি, দেশে ফেরার পর এই বিশ্বকাপের আর একটা ম্যাচও আমি টিভিতে দেখব না। এটাই এই অবিচারের বিরুদ্ধে আমার নীরব প্রতিবাদ, নিজের আওয়াজ তোলার নিজস্ব উপায়।
মিশরের এই আগুনে বিবৃতির পর ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় শুরু হলেও, ফিফা এখনো পর্যন্ত এই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। তবে মাঠের বাইরে এই তপ্ত রেফারিং বিতর্ক শেষ আটে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাওয়া আর্জেন্টিনার ওপর যে এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করল, তা বলাই বাহুল্য!
তথ্যসূত্র: ইএসপিএন
