মাঠের লড়াই শুরু হতে এখনো এক সপ্তাহ বাকি, কিন্তু তার আগেই ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিটের বাজারে রীতিমতো আগুন লাগিয়ে দিয়েছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ২১ জুন সিয়াটলে ডি-গ্রুপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া এবং সহ-স্বাগতিক ইউএসএ। নকআউট পর্বের ম্যাচ না হওয়া সত্ত্বেও এটিই হতে যাচ্ছে এই বিশ্বকাপের অন্যতম ব্যয়বহুল ও দামি ম্যাচ। গত শনিবার প্যারাগুয়ের বিপক্ষে আমেরিকার বিধ্বংসী জয়ের পর থেকেই এই ম্যাচের টিকিটের জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে এবং সেকেন্ডারি বা রিসেল মার্কেটে টিকিটের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
রিসেল মার্কেটের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, সিয়াটলে অস্ট্রেলিয়া বনাম ইউএসএ ম্যাচের একটি সাধারণ টিকিটের প্রারম্ভিক মূল্যই এখন দাঁড়িয়েছে ১,৭৩৫ মার্কিন ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার টাকারও বেশি)! গত তিন দিনে টিকিটের দাম একলাফে রেকর্ড ৬১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মূল অনুঘটক ছিল প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে আমেরিকার ৪-১ গোলের বিশাল জয়।
শুধু এই ম্যাচই নয়, ২৬ জুন অস্ট্রেলিয়া বনাম তুরস্কের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের টিকিটের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। গত তিন দিনে সেই ম্যাচের টিকিটের দাম ৭৩ শতাংশ বেড়ে সর্বনিম্ন মূল্য দাঁড়িয়েছে ১,৫১৬ মার্কিন ডলারে (প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার টাকা)। ফুটবল পণ্ডিতদের মতে, ম্যাচগুলোর এখনো বেশ কয়েক দিন বাকি থাকায় টিকিটের এই দাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা ভেবেই বুক কাঁপছে ফুটবলপ্রেমীদের।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারফরম্যান্স কিছুটা অম্ল-মধুর হলেও, ঘরের মাঠে প্যারাগুয়েকে যেভাবে তারা খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়েছে, তাতে দলটিকে নিয়ে আমেরিকান সমর্থকদের প্রত্যাশা এখন আকাশচুম্বী। ফোলারিন বালোগুনের জোড়া গোল, জিও রেইনার দুর্দান্ত এক স্ট্রাইক এবং প্যারাগুয়ের একটি আত্মঘাতী গোলে ভর করে ইতিহাস গড়েছে ইউএসএ।
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ম্যাচে একযোগে চার গোল করার কীর্তি গড়ল মার্কিনরা। এছাড়া বিশ্বকাপের মঞ্চে এটি তাদের মাত্র তৃতীয় ৩ গোলের ব্যবধানে জয়। এর আগের দুটি তিন গোলের জয় এসেছিল সেই ১৯৩০ সালের উদ্বোধনী বিশ্বকাপে, বেলজিয়াম ও প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে।
ঘরের মাঠে উড়তে থাকা আমেরিকার বিরুদ্ধে সিয়াটলের মাটিতে এক মহাকাব্যিক অঘটনের জন্ম দিতে মুখিয়ে আছে অস্ট্রেলিয়া। ২০১০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত দুই দল মোট তিনবার মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে দুটিতে জিতেছে ইউএসএ এবং একটিতে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। সর্বশেষ গত বছরের প্রীতি ম্যাচেও অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল মার্কিনীরা।
তবে সাম্প্রতিক ফর্মের বিচারে কিন্তু মার্কিনদের চেয়ে সকারুজরাই বেশ এগিয়ে। নিজেদের শেষ ৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের মাত্র একটিতে হেরেছে অস্ট্রেলিয়া, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের শেষ ৫ ম্যাচের ৩টিতেই হারের মুখ দেখেছে। মাঠের লড়াইয়ে জর্ডান বস’রা আমেরিকার দর্পচূর্ণ করতে পারবেন কি না তা সময়ই বলবে, তবে সিয়াটলের গ্যালারিতে বসে এই ঐতিহাসিক ম্যাচ দেখতে ফুটবলপ্রেমীদের যে পকেটের বড় একটা অংশ খসাতে হচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য!
ডেম্বেলে ও কন্তের সঙ্গে এমবাপের দ্বন্দ্বে তোলপাড় ফ্রান্স!
ডালাসে ডাচদের পরীক্ষা নিতে তৈরি সামুরাই ব্লু