মায়ামির তপ্ত মাঠে নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে ধুলো খাইয়ে ইংল্যান্ড যখন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের টিকিট কাটল, তখন কেবল মাঠের ফুটবলাররাই নন, উল্লাসে ফেটে পড়েছে পুরো ব্রিটিশ রাজপরিবার থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ও ক্রীড়াঙ্গনের শীর্ষ তারকারা!
জুড বেলিংহামের মহাকাব্যিক জোড়া গোলে পিছিয়ে থেকেও অতিরিক্ত সময়ের থ্রিলারে এই অবিশ্বাস্য জয়ের পর উদযাপনে মেতেছেন প্রিন্স উইলিয়াম, প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার এবং ফুটবল আইকন স্যার ডেভিড বেকহ্যাম। আগামী বুধবারে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ব্লকবাস্টার সেমিফাইনালের আগে পুরো ইংল্যান্ড জুড়ে এখন শুধুই উৎসবের আমেজ।

ম্যাচ শেষ হতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রিন্স অব ওয়েলস উইলিয়াম তাঁর অফিশিয়াল বার্তা দিয়ে লিখেছেন, সাবাশ ইংল্যান্ড! এত কঠিন এক প্রতিকূল আবহাওয়ায় কী দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। এই দলটা সত্যিই স্পেশাল। গর্বিত নরওয়ে দলের জন্য সমবেদনা। এবার সেমিফাইনালের পালা... জয় নিয়ে কোনো সন্দেহই ছিল না! বার্তার শেষে তিনি স্বভাবসুলভ সংক্ষেপে সই করেছেন কেবল ‘W’ লিখে।
তবে সবচেয়ে ঝাঁজালো ও ‘সসি’ টুইটটি এসেছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের কাছ থেকে। ১৯৮১ সালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে নরওয়ের বিখ্যাত ধারাভাষ্যকার বিয়োর্গ লিলিইয়েনের সেই ঐতিহাসিক ও দাম্ভিক উক্তিকে মনে করিয়ে দিয়ে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোরকে ট্যাগ করে স্টারমার এক হাত নিয়েছেন। এক্সে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, নরওয়ে ১-২ জুড বেলিংহাম। জোনাস গাহর স্টোর, আপনার ছেলেরা আজ নরক গুলজার এক মার খেয়েছে! প্রধানমন্ত্রীর এমন রসাত্মক খোঁচা দুই দেশের ভক্তদের মাঝে বেশ বিনোদন জুগিয়েছে।

অন্যদিকে, ম্যাচ শুরুর আগে গত শুক্রবার ইংল্যান্ডের অনুশীলন সেশনে হাজির থাকা এবং মায়ামি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে খেলা দেখা সাবেক ইংলিশ কাপ্তান ডেভিড বেকহ্যাম তো আবেগে ভাসছেন। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে ওএসিস ব্যান্ডের বিখ্যাত ‘ওয়ান্ডারওয়াল’ গানের সাথে ফুটবলারদের গলা মেলানোর প্রথাগত ভিডিও শেয়ার করে বেকহ্যাম লিখেছেন, ছেলেরা চমৎকার খেলেছে। মায়ামিতে কী এক অবিশ্বাস্য মুহূর্ত! বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছানোয় আজ দলের জন্য আমি ভীষণ গর্বিত। পুরো দেশের মুখে এই চওড়া হাসি ফোটানোর জন্য ইংল্যান্ড দলকে ধন্যবাদ।
একই সুরে ওএসিস ব্যান্ডের প্রধান গায়ক লিয়াম গ্যালাগারও বেশ চনমনে গলায় হুংকার দিয়েছেন, আমরাই এবার বিশ্বকাপ জিতছি, কীভাবে জিতব তা জানি না আর জানার কেয়ারও করি না! খেলোয়াড় ও কোচের প্রতি রইল পরম শ্রদ্ধা।"

চলতি বিশ্বকাপে অধিনায়ক হ্যারি কেইনের সমান ৬টি গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে থাকা জুড বেলিংহামকে প্রশংসায় ভাসাতে গিয়ে আইটিভি’তে সাবেক রাইট-ব্যাক গ্যারি নেভিল তো এক কাঠি ওপরে চড়েছেন। তিনি বলেন, আমি আমার জীবদ্দশায় বড় বড় টুর্নামেন্টে পল গ্যাসকোয়েন, মাইকেল ওয়েন কিংবা ২০০৪ সালে ওয়েন রুনির মতো তারকাদের প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে দেখেছি। কিন্তু কোনো তরুণ খেলোয়াড়কে জুড বেলিংহামের মতো এতটা অবিশ্বাস্য প্রভাব ফেলতে আমি আগে কখনোই দেখিনি! আমরা চোখের সামনে যা দেখছি তা শুধুমাত্র অনন্য। ও প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি কিছু দিচ্ছে।
নেভিল আরও যোগ করেন, ম্যাচটা দারুণ বড় এক যুদ্ধ ছিল, কিন্তু আমরা বৈতরণী পার হয়েছি। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা চাট্টিখানি কথা নয়।
নেভিলের পাশাপাশি ইংল্যান্ডের গোল্ডেন জেনারেশনের আরেক সদস্য সোল ক্যাম্পবেল ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ছেলেরা, তোমরা সত্যিই পেরেছ! সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকার পিটার ক্রাউচ এবং অ্যালান শিয়ারারও মায়ামির এই অবিস্মরণীয় রাতকে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা রাত বলে অভিহিত করেছেন। শিয়ারার তো সাোজা জানিয়ে দিয়েছেন, যদি ভালো খেলতেও না পারো, তবুও কীভাবে ম্যাচ জিততে হয় তা জানতে হবে। ছেলেরা আজ ঠিক সেটাই করে দেখিয়েছে। এখন ফুটবল বিশ্বের সব চোখ আটলান্টায়, যেখানে বেলিংহামের এই অদম্য ইংল্যান্ড লড়বে মেসির আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে!
