বুধবার আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে যখন বিশ্ব ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড মহাজাগতিক সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, তখন মাঠের ২২ জন মহাতারকার পাশাপাশি ফুটবল বিশ্বের সব আলো কেড়ে নিয়েছেন একজন মানুষ- ইসমাইল এলফাত।
ফিফা কর্তৃক এই হাই-প্রোফাইল ম্যাচের প্রধান রেফারি হিসেবে মরক্কো বংশোদ্ভূত এই মার্কিন রেফারির নাম ঘোষণা করার পর থেকেই শুরু হয়ে গেছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে এলফাতকে মাঠে সহযোগিতা করবেন তাঁরই দুই স্বদেশী সহকারী রেফারি কোরি পার্কার এবং কাইল অ্যাটকিন্স।

ফুটবল প্রেমীদের কাছে ইসমাইল এলফাত নামটা কিন্তু মোটেও অপরিচিত নয়। চলতি বিশ্বকাপেই ইতিমধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের সফল পরিচালনা করে রেফারি হিসেবে নিজেকে চিনিয়েছেন ৪৪ বছরের এলফাত।
গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস-জাপান এবং উরুগুয়ে-স্পেনের মতো গ্রুপ ভাগ্য নির্ধারণী দুটি হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ সামলানোর পর, শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নরওয়ের ম্যাচটিতেও বাঁশি ছিল তাঁর হাতেই। বুধবার আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ম্যাচটি হতে যাচ্ছে চলতি বিশ্বকাপে তাঁর চতুর্থ অ্যাসাইনমেন্ট।

আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি কিংবা আমেরিকার স্থানীয় ফুটবল ভক্তদের কাছে ইসমাইল এলফাত অত্যন্ত চেনা এক মুখ। ২০১২ সাল থেকে তিনি নিয়মিত যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের ম্যাচ পরিচালনা করে আসছেন, যেখানে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলেন স্বয়ং মেসি।
আরও মজার ব্যাপার হলো, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেই রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে আর্জেন্টিনা যখন ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, সেই ঐতিহাসিক ম্যাচেও রেফারির অফিশিয়াল প্যানেলে ছিলেন এলফাত; সেদিন তিনি চতুর্থ অফিশিয়াল হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

বিশ্বকাপের মঞ্চে ২০০২ সালের পর এই প্রথম মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। সেবার বেকহ্যামের ইংল্যান্ড ১-০ গোলে জিতেছিল। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় পরের এই প্রথম বিশ্বকাপ দ্বৈরথকে ঘিরে উত্তেজনার পারদ যখন তুঙ্গে, তখন রেফারি এলফাতের ওপর চাপ থাকবে হিমালয়সম।
কারণ, চলতি বিশ্বকাপে সেমিতে ওঠার পথে আর্জেন্টিনার বেশ কিছু ম্যাচ রেফারি ও ভিএআর-এর বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জন্য কাঠগড়ায় উঠেছে। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার ঈসা মান্দিকে ফাউল করেও লিওনেল মেসির লাল কার্ড থেকে বেঁচে যাওয়া, কিংবা শেষ আট নিশ্চিত করার পথে মিশরের একটি গোল ফাউলের অজুহাতে বাতিল হওয়া, সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টে অনেক ভাগ্যই আর্জেন্টিনার পক্ষে গেছে বলে ফুটবল মহলে তুমুল গুঞ্জন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে রেফারি ইসমাইল এলফাতের প্রতিটি সিদ্ধান্ত যে অনুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে রেখে নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করা হবে, তা বলাই বাহুল্য!
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
