হৃদয়ভাঙা শোক আর চোখভেজা আবেগে ভারী হয়ে উঠেছে ফুটবল দুনিয়া। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর বুয়েনস আইরেসের রোজারিওতে মাত্র ৬৮ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন লিওনেল মেসির বাবা ও এজেন্ট হোর্হে মেসি। বাবার মৃত্যুর শোক বুকে চেপেই বুধবার ইন্টার মায়ামির হয়ে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন ৩৯ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
তবে খেলার মাঠের পারফর্ম্যান্সের চেয়েও বেশি তোলপাড় সৃষ্টি করেছে মেসির একটি আবেগঘন সামাজিক মাধ্যম পোস্ট, যেখানে তিনি ফুটবল ক্যারিয়ারকে বিদায় জানানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন!
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভবিষ্যতের কথা তুলে ধরে আবেগপ্লুত মেসি লিখেছেন, বাবার মৃত্যুর পর ফুটবল চালিয়ে যাওয়া নিয়ে আমি গভীরভাবে ভাবছি। সত্যি বলতে, আমি আর কতদিন খেলা চালিয়ে যেতে পারব, তা নিয়ে আমি একদম নিশ্চিত নই।
মেসির ১৪ বছর বয়স থেকেই তাঁর এজেন্ট হিসেবে কাজ করে আসছিলেন বাবা হোর্হে। ছেলেকে বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হয়ে ওঠার যাত্রায় ছায়ার মতো আগলে রেখেছিলেন তিনি। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ট্রফি জয়ের রঙিন মুহূর্তেও তিনি পাশে ছিলেন।

তবে চলতি গ্রীষ্মের বিশ্বকাপে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয় আর্জেন্টিনা। মেসি প্রকাশ করেছেন, বাবার শরীর অত্যন্ত খারাপ থাকা সত্ত্বেও হোর্হে চেয়েছিলেন মেসি যেন শেষবারের মতো আরও একটি বিশ্বকাপ খেলেন।
রোববার আর্জেন্টিনায় বাবার শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার পর বুধবারই তড়িঘড়ি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন মেসি। শনিবার মন্তেরির কাছে ২-১ গোলে হেরে যাওয়া ম্যাচে তিনি ছিলেন না, তবে ইন্টার মায়ামির ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে কোচ গুইলারমো হোয়োসের ডাকে সাড়া দিয়ে মাঠে নামেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে মেসি যখন বদলি হিসেবে মাঠে নামেন, গ্যালারিজুড়ে তখন শুধুই করতালি আর সহানুভূতির প্রকাশ!
মেসি মাঠে নামলেও মায়ামির ভাগ্য ফেরেনি। মেক্সিকান ক্লাব লিওনের কাছে ৩-২ গোলে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেয় তারা। ২০২৩ সালে মায়ামিতে মেসি আসার পর এবং ক্লাবটিকে লিগস কাপের শিরোপা জেতানোর পর এই প্রথম গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে গেল তারা।
মায়ামির হয়ে গোল করা মিডফিল্ডার ইয়ানিক ব্রাইট মেসির এই কঠিন সময়ে মাঠে ফেরাকে অবিশ্বাস্য বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, আমি ওকে আশা করিনি। এতেই বোঝা যায় ও এই দলটাকে কতটা ভালোবাসে। ওকে মাঠে দেখে আমার মনে হয়েছিল আজ ওর জন্য ১৫০ শতাংশ উজাড় করে দেব। ওর জন্য এটি অত্যন্ত কঠিন সময়, আমরা যথাসম্ভব ওর পাশে থাকার চেষ্টা করছি।
অন্যদিকে প্রতিপক্ষ দল লিওনের কোচ হাভিয়ার গান্দোলফি মেসির এই মানবিক স্পিরিট দেখে শ্রদ্ধায় মাথা নত করে বলেছেন, মেসি এমন একজন মানুষ, যিনি বাকিদের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। আজ আবারও তিনি প্রমাণ করলেন যে তিনি কী দিয়ে তৈরি!
বাবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা থেকে শোকের সাগরে ভাসতে ভাসতেও মাঠে নেমেছিলেন এলএমটেন। তবে এখন প্রশ্ন একটাই, ফুটবল ঈশ্বর কি সত্যিই বুটজোড়া চিরতরে তুলে রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবেন? উত্তর জানতে প্রহর গুনছে কোটি ভক্ত!
তথ্যসূত্র: বিবিসি
