ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বহু বিতর্কিত ‘বিশ্বকাপ সত্ত্ব বিক্রির পরিকল্পনা’ নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্ফোরক মন্তব্য করার কয়েক সপ্তাহের মাথায় চাকরি হারিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) কেভিন লামুর। গত সোমবার এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতির মাধ্যমে কেভিন লামুরের সঙ্গে কাজের সম্পর্ক ছিন্ন করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ফিফা।
এককালে ২০১৬ সালের ফিফা নির্বাচনে ইনফান্তিনোর প্রচারণার মূল কারিগর ও অত্যন্ত বিশ্বস্ত সদস্য ছিলেন এই ফরাসি কর্মকর্তা। তবে, সম্প্রতি বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব প্রাইভেট ইকুইটি ফার্মের কাছে বিক্রি করে ৪.২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহে ২০ বিলিয়ন ডলারের এক প্রতিষ্ঠান গড়ার পরিকল্পনা এনেছিলেন ইনফান্তিনো। কেভিন লামুর সেই প্রস্তাবকে একজনের নিজস্ব প্রকল্প আখ্যা দিয়ে চরম সমালোচনা করেছিলেন।

চাকরিচ্যুত হওয়ার পূর্বে কেভিন লামুর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, আমাদের মূল দায়িত্ব ফুটবলের সেবা করা; কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করা নয়, যিনি দুর্ভাগ্যবশত নিজেকেই ফিফার রূপ মনে করেন। অথচ তাঁর কাজ হলো সংস্থার সেবক হয়ে থাকা।
লামুরের এই অভূতপূর্ব মন্তব্যের আগেই ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্ডেইরো এই পরিকল্পনাকে ফুটবলের জন্য ক্ষতিকর একটি চুক্তি বলে পদত্যাগ করেছিলেন। তীব্র বাধার মুখে ইনফান্তিনো প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হলেও ফিফার ভেতরে সৃষ্ট এই ঝড়ের রেশ থামেনি।
আগামী মার্চে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হবার সম্ভাবনা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা (উয়েফা), এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং কনকাকাফ (উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ফুটবল)- এই তিন শক্তিশালী পরাশক্তি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে একাট্টা হয়েছে।
তারা ইতিমধ্যে ইনফান্তিনোর কর্মকাণ্ডের ওপর স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তবে তিনি এশীয় ও ইউরোপীয়দের সমর্থন হারালেও আফ্রিকান (সিএএফ) ও দক্ষিণ আমেরিকান (কনমেবল) ফুটবল কনফেডারেশনের সমর্থন ধরে রেখেছেন।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী একজন সভাপতি সর্বোচ্চ তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। কিন্তু ইনফান্তিনো ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের সময়কালকে প্রথম পূর্ণাঙ্গ মেয়াদ না ধরে (যেহেতু তিনি সেপ ব্লাটারের পদত্যাগের পর অসমাপ্ত মেয়াদ পূর্ণ করেছিলেন) চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচন করার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

এই নিয়মের চরম বিরোধিতা করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও ক্রীড়া সংস্থা 'ফেয়ারস্কয়ার' ফিফার গভর্ন্যান্স, অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স কমিটির (জিএসিসি) কাছে ইনফান্তিনোর প্রার্থিতা বাতিল ও তাঁকে অযোগ্য ঘোষণার দাবিতে আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে।
ফিফার সাবেক স্বাধীন গভর্নেন্স কমিটির প্রধান মিগুয়েল মাদুরো বলেন, ২০১৬ সালের সংস্কারের মূল উদ্দেশ্যই ছিল ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা। কোনো একক ব্যক্তির জন্য বিধিমালার ব্যতিক্রম ঘটিয়ে মেয়াদের সীমা লঙ্ঘন করার চেষ্টা সরাসরি বিশ্ব ফুটবলের আইনি কাঠামোর চরম অবমাননা।
বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রি সংক্রান্ত কেলেঙ্কারি ও অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের কারণে বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম বড় প্রশাসনিক সংকটের মুখোমুখি ইনফান্তিনো ও ফিফা।
