আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত একমাত্র টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই আফগান পেসারদের তোপের মুখে পড়ে প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রানে অলআউট হয়ে গেছে বাংলাদেশ। ৮ উইকেটে ৩১৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করা টাইগাররা শনিবার সকালে মাত্র ৮.৩ ওভার ক্রিজে টিকে থেকে বাকি ২ উইকেটে বোর্ডে যোগ করতে পেরেছে মাত্র ২৯ রান। আফগান ফাস্ট বোলার মোহাম্মদ সালিমের মারাত্মক সুইং ও গতির কাছেই শেষ পর্যন্ত পরাস্ত হয় বাংলাদেশের লেজ।
দিনের শুরুতেই উইকেটে জমে বসা তাইজুল ইসলামকে ফিরিয়ে নিজের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন মোহাম্মদ সালিম। এর আগে জুনে নিউ চণ্ডীগড়ে ভারতের বিপক্ষে ৬ উইকেট নেওয়া এই পেসার ৮২ রানে ৪ উইকেট নিয়ে আফগানিস্তানের সফলতম বোলার হিসেবে ইনিংস শেষ করেন।
অন্যপ্রান্তে লড়াই চালিয়ে যান বাংলাদেশ স্কোয়াডে দেরিতে যুক্ত হওয়া নাঈম হাসান। মূল স্কোয়াডে না থেকেও মূল একাদশে সুযোগ পেয়ে ৬৭ বলে ৪টি চারে ৩৫ রানের এক কার্যকরী ও অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। তবে ইবাদত হোসেন কোনো রান না করেই ইয়ামিন আহমাদজাইয়ের বলে স্লিপে ক্যাচ দিলে ৩৪৬ রানেই সমাপ্তি ঘটে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের।
আফগান টেস্ট ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসে এটি মাত্র দ্বিতীয় ঘটনা, যেখানে তাদের পেস আক্রমণ এক ইনিংসে প্রতিপক্ষের ৯টি উইকেট পকেটে পুরেছে। সালিমের ৪ উইকেটের পাশাপাশি ইয়ামিন আহমাদজাই ৭৯ রানে ৩টি এবং ইসমাত আলম ২টি উইকেট শিকার করেন।
এর আগে ম্যাচের প্রথম দিনে বাংলাদেশ দলকে ঝোড়ো সূচনা এনে দিয়েছিলেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। মাত্র ৭১ বলে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৮৩ রানের এক চোখধাঁধানো ইনিংস খেলেন তিনি। প্রথম সেশনেই সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলা তানজিদ ও সতর্ক শাদমান ইসলাম প্রথম উইকেটে যোগ করেন ১২৪ রান।
তবে লাঞ্চের ঠিক আগে উইকেটরক্ষক ইকরাম আলিখিল স্টাম্পের কাছাকাছি এগিয়ে এসে ইসমাত আলমের ওভারে দারুণ এক উইকেটের পেছনের ক্যাচ ধরে তানজিদকে প্যাভিলিয়নে ফেরান।
পরবর্তীতে শাদমান ইসলাম তাঁর ক্যারিয়ারের নবম টেস্ট ফিফটি তুলে নিয়ে ৬৭ রানে মোহাম্মদ সালিমের শট ডেলিভারিতে আউট হন। এরপর মুমিনুল হক ৩৯ রানে ফিরলে হুট করেই মিনি ধসের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ১৮ বলের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে টাইগাররা, আহমাদজাইয়ের দারুণ ইয়র্কারে শূন্য রানে বিদায় নেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত (২৯) ক্যাচ দেন কায়েস আহমেদের বলে।
অস্ট্রেলিয়া সফরে টানা তিনটি শূন্য রানে আউট হওয়ার পর এই ম্যাচে দুর্দান্তভাবে ফর্মে ফেরেন লিটন দাস। তিনি ও মেহেদী হাসান মিরাজ ৬২ রানের জুটি গড়ে বিপর্যয় সামাল দেন। মিরাজ ২৪ রান করে ইসমাতের বলে বোল্ড হলেও লিটন করেন মূল্যবান ৫৩ রান। তবে দিনের শেষভাগে লিটন ও হাসান মাহমুদকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের পথ থেকে আটকে দেন আফগান বোলাররা, যা দ্বিতীয় দিনের সকালে সহজেই পূর্ণতা পায়।
