রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জিয়াউর রহমান ও আব্দুস সালাম নামের দুইজন রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।
শনিবার (২ অক্টোবর) ভোরে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সকালে তাদের উখিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উখিয়াস্থ ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক পুলিশ সুপার মো. নাঈমুল হক গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ নিয়ে ওই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এর আগে শুক্রবার (১ অক্টোবর) সলিম প্রকাশ ওরফে লম্বা সলিম (৩০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে এপিবিএন। সলিম লম্বাশিয়া ক্যাম্পের বাসিন্দা।
পুলিশ সুপার মো. নাঈমুল হক বলেন, ‘শনিবার ভোরে বিভিন্ন ক্যাম্পে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ওই দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। কুতুপালংস্থ ক্যাম্প-১ ইস্ট লম্বাশিয়া থেকে আব্দুস সালামকে (২৯) এবং ক্যাম্প-৮ ইস্ট থেকে জিয়াউর রহমান (৩২) কে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুইজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এরপর উখিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, উখিয়া উপজেলার লম্বাশিয়া ক্যাম্পেই ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি পিস ফর হিউম্যান রাইটস অফিসে এই সংগঠনের চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহে (৪৮) গুলি চালিয়ে হত্যা করে একদল অস্ত্রধারীরা।
মুহিবুল্লাহর ভাই হাবিবুল্লাহর দাবী করেন এই ঘটনার সাথে জড়িত ছিল ১৫-২০ জন। তাদের অনেকের মুখে ছিল মাস্ক। বৃহস্পতিবার রাতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে উখিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। তিনি হামলাকারী কয়েকজনকে চেনার কথা সাংবাদিকদের জানালেও মামলায় আসামির তালিকায় কারও নাম দেওয়া হয়নি।
এদিকে, শনিবার এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ মিয়ানমারে ফেরত যেতে চেয়েছেন বলেই স্বার্থান্বেষী মহল তাকে হত্যা করেছে। মুহিবুল্লাহ হত্যাকারীদের বিচারের সম্মুখীন করা হবে এবং কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এছাড়াও মুহিবুল্লাহকে হত্যার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। জাতিসংঘ, ইউএনএইচসিআর, যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জেলা পুলিশ ও এপিবিএনের টহল বাড়ানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম।
একাত্তর/এআর
