আকাশ ছোঁয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে বিমানের ভেতর ঘটে গেল এক চরম নোংরা ও নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি! রানওয়ে দিয়ে ওড়ার জন্য যখন বিমানটি এগিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই টয়লেটের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে পুরো কেবিনে উথলে উঠল নোংরা পয়ঃবর্জ্য ও মানুষের মলমূত্র।
মলমূত্রের এমন আকস্মিক বন্যায় থৈ থৈ করতে শুরু করে বিমানের মেঝে। গেলো শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইস্তাম্বুলগামী তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে এই হুলস্থুল কাণ্ড ঘটে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পাইলট মাঝপথেই টেক-অফ বাতিল করে বিমানটিকে পুনরায় টার্মিনাল গেটে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ডেনভার পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমান ছাড়ার আগেই টয়লেটের সামনের ভেজা মেঝে থেকে এক চরম দুর্গন্ধ ও ভ্যাপসা গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। গ্রিনউড ভিলেজের বাসিন্দা ফারহাং ভারুচা তাঁর পরিবারসহ ওই টয়লেটের কাছাকাছিই বসেছিলেন।
তিনি জানান, উড্ডয়নের আগেই একাধিক যাত্রী এই বিকট গন্ধের ব্যাপারে কেবিন ক্রুদের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু ক্রু সদস্যরা তাঁদের জানান, বিমানটি প্রায় হাউজফুল এবং মাত্র অল্প কয়েকটি সিট ফাঁকা আছে যা দিয়ে সবাইকে সামলানো সম্ভব নয়।
এর কিছুক্ষণ পরই পরিস্থিতি নরক গুলজার হয়ে ওঠে, যখন টয়লেটের কমোড থেকে বাদামী রঙের নোংরা মলমূত্র মিশ্রিত জল ছিটকে এসে কেবিনের কার্পেটে ভাসতে শুরু করে।
বিমানটি গেটে ফিরে আসার পর তুর্কি এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ ফ্লাইটটি সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করে, যার ফলে শত শত যাত্রী মাঝপথে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। এয়ারলাইন্স থেকে যাত্রীদের নিজেদের দায়িত্বে হোটেল বুকিং করার নির্দেশ দেয়া হয় এবং পরবর্তীতে সেই টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়।
তবে সবচেয়ে বড় বিপত্তি ঘটে যখন এয়ারলাইন্সটি তাদের পার্টনার ক্যারিয়ার বা অন্য বিমানে যাত্রীদের রি-বুকিং করতে পরিষ্কার অস্বীকৃতি জানায়। ফলে সপরিবারে ডেনভার শহরেই আটকে পড়েন ভারুচা।
ভারুচা অভিযোগ করেন, তুর্কি এয়ারলাইন্সের এক কর্মকর্তা এই নোংরা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ফ্লাইট বাতিল হওয়াকে আইনি ভাষায় ‘অ্যাক্ট অব গড’ বা ‘ঈশ্বরের হাত’ (প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি) বলে আখ্যা দিয়েছেন!
এয়ারলাইন্সের এমন চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, তথ্য গোপন করার চেষ্টা এবং যোগাযোগের তীব্র অভাবের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা। এই ন্যক্কারজনক ঘটনা নিয়ে তুর্কি এয়ারলাইন্স এখন পর্যন্ত অফিশিয়ালি কোনো মন্তব্য বা দুঃখ প্রকাশ করেনি।
ব্লুটুথের নাম ‘বোমা’, মাঝআকাশ থেকে ফিরল ইউনাইটেডের বিমান!
এদিকে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি ফ্লাইটে ঘটে গেছে এক অদ্ভুত ও হাসির কাণ্ড। স্পেনগামী ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৬৭ বিমান মাঝআকাশ থেকে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয় কেবল একজনের মোবাইলের ‘ব্লুটুথ’ নামের কারণে!
এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল জানিয়েছে, বিমানের ভেতরে থাকা কোনো এক রসিক যাত্রী তাঁর মোবাইলের ব্লুটুথ ডিভাইসের নাম রেখেছিলেন ‘বোমা’। ব্যস, বিমানে থাকা অন্য কারও ডিভাইসে সেই নাম শো করতেই চারদিকে ‘বোমা আতঙ্ক’ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১৯০ জন যাত্রী এবং ১২ জন ক্রুসহ বিমানটিকে মাঝআকাশ থেকেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আনা হয়।
বিমানটি ল্যান্ড করার পর পোর্ট অথরিটি পুলিশ পুরো বিমানে তল্লাশি চালায়। এরপর ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং কাস্টমস কর্মকর্তারা প্রতিটি যাত্রীকে পুনরায় কড়া স্ক্রিনিং করার পর আবার বিমানে ওঠার অনুমতি দেন। এক যাত্রীর ব্লুটুথ নামকরণের এই খামখেয়ালিতে কয়েক শ’ যাত্রীর ওড়ার আনন্দ মুহূর্তেই মাটি হয়ে যায়।
দিল্লির হোটেলে ভয়াবহ অগুনে নিহত ২১, বেশিরভাগই বিদেশি
চিকিৎসা নিতে আসা বিদেশি রোগীরাই আগুনের মূল শিকার
বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের