বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইমাম প্রবাসে সর্বজন শ্রদ্ধেয়। তরুণ বয়সে দেশকে স্বাধীন করার জন্য যুদ্ধে নেমেছিলেন। পরবর্তীকালে শিল্প ও সংস্কৃতি চর্চার মধ্য দিয়ে নিরলসভাবে অবদান রেখে চলেছেন নিজের মতো করে। একটা সময় চট্টগ্রামে অন্য শিল্পী বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন ব্যান্ডদল সোলস।
বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় এই ব্যান্ড দলটির হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। লিখেছেন অসংখ্য গান। কণ্ঠও দিয়েছেন অনেক গানে। তাজুল ইমামের লেখা জনপ্রিয়তম গানটি হচ্ছে, 'পলাশ ফুটেছে, শিমুল ফুটেছে'। দূর প্রবাসে থেকেও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সুন্দর একটি বাংলাদেশের স্বপ্নে কাজ করে চলেছেন তিনি। আর শিল্পীর সামগ্রিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে দেয়া হয়েছে 'ঘুংঘুর সম্মাননা ২০২১'।
শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের একটি মিলনায়তনে একটি চমৎকার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। টেনেসি প্রবাসী লেখক হুমায়ুন কবিরের সম্পাদনায় নিয়মিত প্রকাশিত হয় সাহিত্য পত্রিকা ঘুংঘুর। পত্রিকাটি পক্ষ থেকে এই সম্মাননা দেয়া হয়। একই সঙ্গে পত্রিকাটির 'নিউইয়র্ক বাংলা বইমেলা' সংখ্যারও মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
আরও পড়ুন: আরসার কথিত 'সেকেন্ড ইন কমান্ড' হাসিমের মরদেহ উদ্ধার
সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক মিনার মনসুর, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বেলাল বেগ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক হারুণ হাবীব, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জিয়াউদ্দিন, সাংবাদিক ও লেখক হাসান ফেরদৌস, অভিনেতা ও নির্মাতা তৌকির আহমেদ, অভিনেত্রী বিপাশা হায়াত, লেখক আহমেদ মাযহার সহ অনেকে। সভাপতিত্ব করেন ঘুংঘুর পত্রিকার সম্পাদক হুমায়ুন কবির।
অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তাজুল ইমামের উপর নির্মিত একটি ভিডিওচিত্র দেখানো হয়। বাচিক শিল্পী নজরুল কবিরের পরিচালনায় নির্মিত এই প্রামাণ্যচিত্রে উঠে আসে তাজুল ইমামের জীবনের নানা দিক।
চট্টগ্রাম আর্ট কলেজ থেকে পড়াশোনা করেছেন। শিল্পী সত্ত্বায় ধারণ করেন দেশের প্রতি ভালোবাসা। সেই সঙ্গে মানবতার কথা বলেন তাজুল ইমাম। সম্মাননা গ্রহণ করে তাই তিনি বলেন, 'সুন্দর একটি পৃথিবীর স্বপ্ন হয়তো পূরণ হবে, সেই আশা নিয়েই কাজ করে যাওয়া'।
একাত্তর/আরএইচ
