দীর্ঘ বিতর্ক ও টানাপোড়নের পর অবশেষে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ২৯ নভেম্বর বিশ্ব পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসছে ইরান। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত হবে এ বৈঠক।
বুধবার (৩ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে এমন তথ্য জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস।
ভিয়েনায় আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী আলী বাঘেরি। এ আলোচনায় তিনি ইরানের নেতৃত্ব দেবেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এক টুইট বার্তায় আলী বাঘেরি বলেন, ইরানের ওপর থেকে অনৈতিক ও অমানবিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে ২৯ নভেম্বর ভিয়েনায় আলোচনায় বসতে একমত হয়েছি আমরা।
ইইউয়ের এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভিয়েনায় বৈঠকে জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশনের (জেসিপিওএ) যৌথ কমিশন অংশ নেবেন। আলোচনায় ইইউয়ের পররাষ্ট্রনীতি–সংক্রান্ত প্রধান জোসেফ বোরেলের পক্ষে সভাপতিত্ব করবেন এনরিক মোরা।
এদিকে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে এ আলোচনায় অংশ নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেক্ষেত্রে কিছু শর্ত দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। মার্কিন প্রশাসন বলছে, ইরান আন্তরিক থাকলে এ চুক্তি সফল হবে।

২০১৮ সালে ইরানের সাথে পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
চলতি মাসের শেষের দিকে এ আলোচনায় ব্রিটেন, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়াও অংশ নেবে বলে জানিয়েছে ইইউ।
এর আগে ২০১৫ সালে বিশ্বের ছয়টি পরাশক্তির সাথে পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে আসতে সম্মত হয় ইরান। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন এবং রাশিয়া, অর্থাৎ পি ফাইভ প্লাস ওয়ান নামে পরিচিত পরাশক্তিগুলো ছিল এই চুক্তির অংশীদার।
ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি বৃদ্ধি করায় কয়েক বছর ধরে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। যদিও ইরান তার কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে আসছিল, কিন্তু তা বিশ্বাস করেনি বিশ্বের পরাশক্তিগুলো।
একাত্তর/আরবিএস
