এবার আর রক্ষা নেই, তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেছেন বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। ভেঙে গেছে ধৈর্যের বাঁধ, শাসন রূপ নিয়েছে শাস্তিতে।
বিশ্বকাপে চরম ব্যর্থতার চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে ক্রিকেটারদের। কড়া জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে টিম ম্যানেজম্যান্টকে। বাংলাদেশের ক্রিকেটে এবার বিরল এক ঘটনাই ঘটতে যাচ্ছে।
নায়ক হতে গিয়ে টাইগাররাই এখন খলনায়ক। কেউ বলছে বাংলাদেশ বিশ্বকাপের সৌন্দর্য্য নষ্ট করেছে, কেউ বলছে রিয়াদরা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা হারিয়েছে।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে এতোটা হেয় করার অধিকার ক্রিকেটাররা রাখে। তাই তো প্রশ্ন উঠেছে রিয়াদ-সাকিবদের সামর্থের, প্রশ্ন উঠেছে দেশের প্রতি তাদের আত্মনিবেদনের।
একই ভুল যখন বারবার হয় তখন তা অপরাধ। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা যেন সেই অপরাধেরই অপরাধী। কিন্তু জবাবদিহিতার জায়গাটা বড্ড নড়বড়ে থাকায় সেই সব ভুলকে যেন অভ্যাস বানিয়ে নিয়েছিলো।
কিন্তু ঘুঘু আর কত ধান খেয়ে যাবে, এবার গৃহস্থের দিন এসেছে। বিশ্বকাপের এই বাজে পারফরম্যান্সের জন্য কড়া শাস্তি পেতে যাচ্ছে ক্রিকেটাররা।
এরইমধ্যে গোপন এক বৈঠকে বসে গেছে বোর্ড কর্তারা। সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের নেতৃত্বে সেই গোলটেবিল বৈঠকে ছিলেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, গেম ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ সুজন, সিসিডিএমের চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদের সাথে আরো দুই বোর্ড পরিচালক ইসমাইল হায়দার মল্লিক ও জালাল ইউনুস।
দীর্ঘ আলোচনায় এসেছে বেশ কিছু প্রথমিক সিদ্ধান্ত। এ ধরনের সিদ্ধান্ত আগে কখনও দেখেনি এদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। সেসব সিদ্ধান্তের কথা জানতে পেরেছে একাত্তরের খেলাযোগ।
সবচেয়ে বাজে খেলে সবচেয়ে সমালোচনায় থাকা দুজন লিটন দাস আর সৌম্য সরকারকে বলে দিয়েছে টি টোয়েন্টিতে ওদের নেই আর কোন দরকার। অর্থাৎ ছোট ফরম্যাটের এই ক্রিকেট থেকে এই দুই ওপেনারকে স্থায়ীভাবে বাদ দিতে যাচ্ছে বিসিবি।
শুধু বিশ্বকাপই নয় বছরজুড়েই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যর্থতার সাগড়ে হাবুডুবু খাচ্ছেন মুশফিকুর রহিম। যদিও শুধুমাত্র অভিজ্ঞতার বিচারে আরো একটা সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। বৈঠকে এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন সবাই।
ক্যাপ্টেন হিসেবে ব্যর্থতার দায়টা এড়াতে পারেন না মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মেনেও নিয়েছেন। তাই হয়তো কাপ্তানের দায়িত্বটা তার উপরেই রাখছে বোর্ড।
আরও পড়ুন: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ডট বলেই ডুবলো টাইগাররা
এবারের ব্যর্থতায় টনক নড়ে গেছে বিসিবির। তাই তো আসছে পাকিস্তান সিরিজ থেকেই শুরু করতে চাইছে আগামী বিশ্বকাপের প্রস্তুতি।
প্রথম কাজ ঘরের মাঠে পাকিস্তান সিরিজেই বেশ কিছু নতুন মুখকে সুযোগ দেয়া হবে। অর্থাৎ ব্যাপক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে দলে।
পাওয়ার হিটিং বড্ড ভুগিয়েছে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। তাই আর দেরি নয়, আনাচে কানাচে থেকে খুঁজে আনতে হবে মারকাটারি কিছু ক্রিকেটার। যার দায়িত্ব পড়েছে সাবেক ক্যাপ্টেন খালেদ মাহমুদ সুজনের কাঁধে।
দীর্ঘ দিনের আরেক সমস্যা ওপেনিং স্লট। তামিম না থাকার বিষয়টি বিশ্বকাপে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে দল। এনিয়ে তামিমের সাথে সরাসরি বসবেন বোর্ড সভাপতি নিজেই।
টি-টোয়েন্টির বাইরে বাংলাদেশের আরেকটা দুর্বলতার জায়গা টেস্ট ক্রিকেট। যেখানে নিয়মিত খেলার কমিটম্যান্ট পেলে সাকিবকে অধিনায়ক করতে চায় মুমিনুলকে সরিয়ে।
বিসিবির এই সিদ্ধান্তগুলো কতটা কার্যকরী হবে কিংবা হলে কতটা সুফল আসবে সেটা হয়তো সময় বলে দেবে।
তবে তার আগে এমন সিদ্ধান্ত কড়া বার্তা দিয়ে যাচ্ছে, ভুল করলে রেহাই নেই, কড়া শাস্তি পেতে হচ্ছে। দেশের ক্রিকেটের জন্য যা বড্ড গুরুত্বপূর্ণ। পরের পর্বে থাকছে টিম ম্যানেজম্যান্ট নিয়ে বিসিবির নেয়া কঠোর সব সিদ্ধান্তের খবর।
একাত্তর/টিএ
