জয়পুরহাটে চলছে কিডনি বেচাকেনা চক্রের অপতৎপরতা। দালালদের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে গ্রামের অভাবী মানুষরা দাদন ব্যবসায়ীদের দেনা মেটাতে, মেয়ের বিয়ের খরচ জোগাতে কিংবা জুয়া খেলার টাকা সংগ্রহ করতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশে বিভিন্ন স্থানে কিডনি বিক্রি করছেন।
এর আগে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ২০১১ সালের ২৯ আগষ্ট কিডনী বিক্রির খবর গণমাধ্যমে প্রচার হলে নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। এ নিয়ে থানায় চারটি মামলা হলে স্থানীয়সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ডজন খানেকের বেশী দালাল গ্রেপ্তার হয়। তবে আইনের ফাঁক-ফোকরে জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও তারা সক্রিয় পুরোনো পেশায়। জেলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে কিডনি বিক্রির প্রবণতা। দালাল চক্রের ফাঁদে পরছেন অভাবী আর ঋণগ্রস্থ হতদরিদ্র মানুষ।
আরও পড়ুন: দিহানের ‘পাশবিক নির্যাতনে’ স্কুলছাত্রীর মৃত্যু
পুরনো দালালের সাথে নতুন করে যুক্ত হচ্ছে কিডনী বিক্রেতারা। তারাও অংশ নিচ্ছেন দালালিতে। এভাবে দালাল চক্রের খপ্পরে পরে বর্তমানে কিডনী বিক্রির সংখ্যা পাঁচ শতাধিক ছাড়িয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। এদিকে দালালদের প্রলোভনে পড়ে কিডনি বিক্রি করেও পাচ্ছেন না ন্যায্য দাম। এতে অভাব তো যাচ্ছেই না, বরং শারীরিকভাবে দূর্বল হয়ে কিডনী বিক্রেতারা হারাচ্ছেন কর্মক্ষমতা।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কালাই উপজেলার চেয়ারম্যান মিনফুজুর রহমান মিলন বলেন, কোনোভাবেই কিডনি বিক্রি আর দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা যাচ্ছে না। এর পেছনে প্রভাবশালীদের হাত রয়েছে বলেও আভাস দেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।
এবিষয়ে জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মাছুম আহম্মদ ভূঁঞা বলেন, কিডনী বিক্রি ও দাদালদের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এখনো হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
একাত্তর/টিএ
