বাগেরহাটের শরণখোলার রায়েন্দা-বড়মাছুয়া ফেরিঘাটের ইজারা আদায়ের টোল ঘর ভেঙ্গে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ইচ্ছেমাফিক টোল আদায় করাকে কেন্দ্র করে এ ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।
সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে টোল আদায়ের ঘটনায় শরণখোলা ও মঠবাড়িয়া উপজেলার মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে শনিবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে এলাকাবাসী রায়েন্দা পাড়ে বিক্ষোভ মিছিল করে এবং বড়মাছুয়া পাড়ে মানববন্ধন করে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বাগেরহাটের শরণখোলা ও পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার মধ্যবর্তী তিন কিলোমিটার চওড়া বলেশ্বর নদের খেয়া পারাপারে মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দুই উপজেলাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ নভেম্বর বলেশ্বর নদে ফেরি চালু হয়। ফেরি চালু হওয়ায় উপকুলীয় বরগুনা, পাথরঘাটা, মঠবাড়িয়া, শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ, মোংলার সাথে যোগাযোগব্যবস্থা অনেক সহজ হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: 'সামান্য অসুস্থতায় খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিতে চাওয়া রহস্যজনক'
কিন্তু খেয়াঘাট ইজারাদার লোকসান পুষিয়ে নিতে শুক্রবার থেকে ফেরিঘাট এসে টোল আদায় শুরু করেন। ঘাটে টোল ঘর নির্মাণ করে বেড়া দিয়ে গেট বানিয়ে টোল আদায় করায় ভুক্তভোগী মানুষের মধ্য চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদে রায়েন্দা ঘাটপাড়ে বিক্ষোভ মিছিল করে এলাকাবাসী। একপর্যায় বেড়া ও টোলঘর ভেঙ্গে দেয় তারা।
মঠবাড়িয়ার বড়মাছুয়া ইউপি সদস্য মো: কাইয়ুম হোসেন বলেন, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে খেয়াঘাটের ইজারা নিয়ে সড়ক বিভাগের ফেরিঘাটে টোল আদায়ে জনসাধারণের সাথে চরম অন্যায় করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাতুনে জান্নাত বলেন, এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত টোল আদায় বন্ধ রাখা হয়েছে। এখন থেকে খেয়াঘাটের ইজারাদার ফেরিঘাটে গিয়ে টোল আদায় করতে পারবে না।
জানতে চাইলে রায়দা-বড়মাছুয়া খেয়াঘাটের ইজারাদার মো: সালাম হাওলাদার বলেন, পঞ্চাশ লক্ষাধিক টাকায় খেয়ার ইজারা নিয়েছি। কিন্ত ফেরি চালু হওয়ার পর থেকে আমাদের লোকসান হলে টাকা ফেরৎ চেয়ে খুলনার বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আবেদন করলে তার নির্দেশনা অনুযায়ী টোল আদায় শুরু করি। কিন্তু ইজারা না পেয়ে আমাদের প্রতিপক্ষরা টোলঘর ভেঙ্গে দিয়েছে।
একাত্তর/টিএ
