চট্টগ্রামের ষোলশহরের চশমা খালে নিখোঁজ শিশু কামালকে দু'দিনেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এখনো উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস।
বুধবার (৮ ডিসেম্বর) তৃতীয় দিনের মতো অভিযান শুরু করার সময় উদ্ধারকর্মীরা জানান, প্রচুর ময়লা জমে থাকায় স্বাভাবিক ভাবে কাজ করা যাচ্ছে না।
মুরাদপুর এলাকায় চশমা খালে পড়ে ২৫ আগস্ট থেকে নিখোঁজ সবজি বিক্রেতা ছালেহ আহমেদ। মাত্র চার মাস না যেতেই এবার সেই একই খালে নিখোঁজ হলো ১২ বছরের শিশু কামাল।
গেলো সোমবার বিকাল চারটার দিকে নগরের ষোলশহর ভূমি অফিসের সামনে চশমা খালে পড়ে শিশু কামাল তলিয়ে যায়। এরপর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ শুরু করে। কিন্তু অতিরিক্ত আবর্জনার কারণে এখন পর্যন্ত শিশুটিকে উদ্ধার করা যায়নি।
বায়েজিদ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ জানান, আবর্জনার স্তর বেশ পুরু হওয়ায় উদ্ধারকাজ চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে।
তিনি জানান, বুধবার সকাল ৮টা থেকে তিনটি দল শিশুটির খোঁজে কাজ করছে। এরমধ্যে একটি ডুবুরি দল, অন্য দু'টি উদ্ধারকারী দল। খালের সম্ভাব্য সব জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
কামালের খেলার সাথি রাকীব জানায়, খেলনা জাতীয় জিনিস তুলতে তারা নেমেছিল খালে। সে উঠতে পারলেও কামাল তলিয়ে যায়।
খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। তারা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে সংস্থার ডুবুরিরা উদ্ধারকাজ শুরু করে।
তলিয়ে যাওয়া কামাল ষোলশহর রেল স্টেশন এলাকার বস্তিবাসী আলী কাওসারের ছেলে। তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে কামাল সবার ছোট। ছেলে হারিয়ে পাগল প্রায় বাবা।
আরও পড়ুন: আমিত সাহার মৃত্যুদণ্ড না হওয়ায় হতাশ আবরারের বাবা-মা
এলাকাবাসী ও উদ্ধার কাজে নিয়োজিত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় আছে চশমা খাল। বারবার বলার পরেও নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
এরই মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, জানুয়ারির মধ্যে সব নালা-ড্রেনে নিরাপত্তা দেওয়া হবে।
তবে যেগুলোতে সিডিএ’র উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে সেগুলোর দায়িত্ব নিতে রাজী হননি তিনি। এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজী হয়নি সিডিএ’র কোন কর্মকর্তা।
একাত্তর/আরএ
