এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে আগুনে পোড়া ৩১ মরদেহ শনাক্ত করতে তাদের ডিএনএ পরীক্ষা করানো হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া এদের সনাক্ত করা সম্ভব নয়।
দুই সন্তান হারিয়ে হারিয়ে স্তব্ধ বাবা ও পরিবারের সদস্যরা। প্রিয় সন্তানকে আর মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করা হবে না। ছেলে আব্দুল্লাহ আর মেয়ে আছিয়ার মুখে আর বাবা ডাক শুনবেন না মোহাম্মদ রাসেল। আগুনে দুই সন্তান, স্ত্রী আর শাশুড়িকে হারিয়েছেন তিনি।
দুই সন্তান আর স্ত্রীর সন্ধান এখনও মেলেনি। তাই আহাজরিরও অন্ত নেই তার।
এদিকে স্ত্রীর মরদেহটি পেলেও প্রিয় মেয়ে ও নাতির খোজ এখনও মেলেনি। বুক শূন্য কষ্ট নিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে ফিরছেন বাশার।
ট্রাকে থাকা মানুষগুলো ঢাকা থেকে রওনা হয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু ফেরা হলো না স্বজনের কাছে। জায়গা হলো হাসপাতালের মর্গে।
আরও পড়ুন: অভিযান-১০: ওপরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট
স্বজনরা বলছেন, প্রিয় মানুষের দেহটি ফিরে পেতে চান তারা।
শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে এগারোটায় ৩৭টি মরদেহ পৌছায় বরগুনা হাসপাতালে। জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, মৃতদের মধ্যে ছয়-সাতজনকে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। বাকীদের শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করানো হবে।
অন্যদিকে, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে মরদেহ রাখার ব্যবস্থা না থাকায় শনিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে সবার দাফন সম্পন্ন করা হবে বলেও জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার ভোর তিনটার দিকে ঝালকাঠি জেলার সুগন্ধা নদীতে আগুন লাগে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চটিতে।
এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪১ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দগ্ধ অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন একশ' জনেরও বেশি।
একাত্তর/এসজে
