করোনা পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে, চলতি মাসের শেষের দিকে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আবারও খুলে দেয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রোববার সকালে ২০২১ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, এখন একটু খারাপ সময় গেলেও আশা করি এ মাসের শেষে দিকে অবস্থার একটু পরিবর্তন হবে এবং সেই সময় আমরা সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আবার খুলে দিতে পারবো।
তাঁর সরকার সবস্তরের মানুষকে সুরক্ষার জন্য টিকা দেয়ার যে ব্যবস্থা নিয়েছে তার আওতায় এসে সবাই টিকা নিতে আবারও আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী।
টিকা নিতে অনেকের অনীহার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে আমরা খুলতে পারি সেজন্য টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
কাজেই যারা এ পর্যন্ত টিকা নেননি তাদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে, আপনারা টিকা নিয়ে নেবেন। এই টিকা নিলে পরে করোনা ধরলেও সেটা ওরকম খারাপ পর্যায়ে যাবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছিল বলেই করোনাকালেও অনলাইনে এবং টেলিভিশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রাখতে সমর্থ হয়েছে।
তবে তিনি বলেন, বর্তমানে পরিবারগুলো ছোট হয়ে আসার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে না পাড়ায় অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীকে একাকিত্বে ভুগতে হয়েছে।
সরকার প্রধান বলেন, অনলাইন বা টেলিভিশনে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছে সেটা ঠিক। কিন্তু স্কুল-কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার যে নির্মল আনন্দ, তা থেকে বঞ্চিত ছিল শিক্ষার্থীরা।
তিনি বলেন, যা হোক যখনই আমরা করেনাকে একটু নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি তখনই স্কুলগুলো চালু করেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য হচ্ছে- আবার নতুন সংক্রমণ দেখা দিল।
আরও পড়ুন: বিদায়ী সাক্ষাতে বঙ্গভবনে নির্বাচন কমিশন
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আশা করি, আমরা খুব দ্রুত সমাধান করতে পারবো। ইতোমধ্যে আমরা টিকাও দিচ্ছি। যে সমস্ত ছেলে-মেয়ের বয়স ১২ বছরের ওপরে তাদেরকেও টিকা দেয়া হচ্ছে।
সরকার ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসের আগ থেকে আবার ওমিক্রন ধরনে মৃত্যু বাড়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হয়।
