জেলিফিশের পর এবার পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে আসছে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির রাজ কাঁকড়া।
শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) কুয়াকাটা সংলগ্ন গঙ্গামতি সৈকতে জালে পেঁচানো অবস্থায় রক্তাক্ত সাতটি রাজ কাঁকড়া উদ্ধার করেন একদল গবেষক।
এর আগে গত এক সপ্তাহ ধরে কুয়াকাটার চরবিজয়সহ বিভিন্ন সাগর মোহনায় লাখ লাখ জেলিফিশ ভেসে আসে। যেগুলো ধরা সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হলেও জেলেদের ফেলা গড়া জাল ও বালুচরে আটকে পড়ে মারা যায়।
প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করা গবেষক দলের সদস্যরা জানান, গবেষণার কাজে তারা শনিবার সকালে গঙ্গামতি সৈকতে গেলে জালে পেঁচানো এ রাজ কাঁকড়াগুলো দেখতে পান।
তাৎক্ষণিক তারা কাঁকড়াগুলো ছাড়িয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। আর কিছুক্ষণ জালে পেঁচানো থাকলে ওই প্রাণীগুলো মারা যেতো বলে ধারণা তাদের।
অশ্বখুরের মতো দেখতে উপবৃত্তাকার এই কাঁকড়াটি হলো (Horseshoe Crab) লিমুলাস প্রজাতির। এটি রাজ কাঁকড়া নামে পরিচিত।
৪০ কোটি বছরেরও পুরানো রাজ কাঁকড়ার নীল রক্ত খুবই মূল্যবান। এই রক্তের অসাধারণ ক্ষমতাবলে লিমুলাস বা অশ্বখুরাকৃতি কাঁকড়ারা যে কোনও ধরনের ব্যাকটেরিয়া এবং বিষাক্ত পদার্থ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে।
আরও পড়ুন: বিপুল পরিমাণ মদসহ নারী মাদক কারবারি আটক
প্রাগৈতিহাসিক এই প্রাণীকে 'জীবন্ত জীবাশ্ম' বলা হয় যা প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন বা ৫৫ কোটি বছর পূর্বে ট্রাইলোবাইট থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত হওয়ায় অঙ্গসংস্থানিক পরিবর্তন ছাড়াই এরা পৃথিবীতে টিকে আছে।
গবেষক দলের সদস্য পটুয়াখালী ইকোফিস-২ প্রকল্পের সহযোগী গবেষক সাগরিকা স্মৃতি জানান, তারা আহত সাতটি কাঁকড়া উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। এ কাঁকড়ার জীবন প্রণালী ও এতো বছর বেঁচে থাকার রহস্য জানতে তারা নমুনা সংগ্রহ করেছেন। দুপুরে কাঁকড়াগুলো সাগরে অবমুক্ত করা হয়।
তিনি বলেন, সমুদ্রে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বাড়ায় এ রাজ কাঁকড়ার মতো বিলুপ্ত প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণী মারা যাচ্ছে। এর আগেও কুয়াকাটায় বহু রাজ কাঁকড়ার মৃত ফসিল ভেসে এসেছে।
কিন্তু এগুলো মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে ওই সময় কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এছাড়া হঠাৎ করে কেন এতো জেলিফিস সৈকতে ভেসে আসছে সেটিরও কারণ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেয়ার আহবান গবেষকদের।
একাত্তর/এসজে
