পূর্ব সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে একটি ‘বাটাগুর বাসকা’ কচ্ছপ ৩৪টি ডিম দিয়েছে। শনিবার রাতে প্রজনন প্রকল্পের পুকুর পাড়ের বালির মধ্যে কচ্ছপটি ডিম দেয়।
করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির জানান, কচ্ছপের ডিম দেয়ার পরিবেশ উপযোগী করে আগে থেকেই প্রকল্পের পুকুর পাড়ে বালির পাড় তৈরি করে রাখা হয়েছিলো। সকালে সেখান থেকে ডিমগুলো তুলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়।
এখন বাচ্চা ফুটানোর জন্য ডিমগুলো রাখা হয়েছে বালির ইনকিউভেশনে। এতে ৬৫ থেকে ৬৭ দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বনবিভাগের কর্মকর্তারা।
আজাদ কবির বলেন, আজ একটি কচ্ছপ ৩৪টি ডিম দিয়েছে। আমরা সবগুলো ডিমই প্রাকৃতিক উপায়ে ইনকিউবেশন (বালুর মধ্যে রেখে) করে বাচ্চা ফুটানোর চেষ্টা করব। আশা করি, ৬৫ থেকে ৬৭ দিনের মধ্যে সবগুলো ডিম থেকে বাচ্চা বের হবে।
তিনি আরও বলেন, বিলুপ্ত প্রায় প্রজাতির এই কচ্ছপ আমরা খুব গুরুত্বের সঙ্গে লালন-পালন করছি। বংশবৃদ্ধির জন্য সার্বক্ষণিক নজরে রাখছি। এর আগেও আমাদের এখানে কচ্ছপ ডিম দিয়েছে। সেই ডিম থেকে বাচ্চাও ফুটেছে।
এ নিয়ে ৬ষ্ঠ বারের মতো করমজলে ডিম পারল বিলুপ্ত প্রজাতির কচ্ছপ বাটাগুর বাসকা। এর আগে ২০১৭ সালে দুটি বাটাগুর ৬৩টি ডিম দেয়, যা থেকে ৫৭টি বাচ্চা হয়। পরে ২০১৮ সালে দুটি কচ্ছপ ৪৬টি ডিম দেয়, তাতে ২৪টি বাচ্চা ফোটে।
২০১৯ সালে একটি কচ্ছপ ৩২টি ডিম পাড়ে, তাতে ৩২টি বাচ্চা ফোটে। ২০২০ সালে দুটি কচ্ছপ ৫৬টি ডিম দেয় ও তাতে ৫২টি বাচ্চা ফোটে। সর্বশেষ গত বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে চারটি কচ্ছপ ৯৬টি ডিম পাড়ে, তা থেকে ৭৯টি বাচ্চা ফোটে।
বন্যপ্রাণী গবেষকরা মনে করেন, পৃথিবীতে বাটাগুর বাসকার আর কোনো অস্তিত্ত্ব নেই। পরে ২০০৮ সালে গবেষকরা প্রকৃতিতে বাটাগুর বাসকা আছে কি-না তা খুঁজতে শুরু করেন।
খুঁজতে খুঁজতে নোয়াখালী ও বরিশালের বিভিন্ন জলাশয়ে ৮টি বাটাগুর বাসকা পাওয়া যায়। যার মধ্যে ৪টি পুরুষ ও ৪টি স্ত্রী। পরে প্রজননের জন্য গাজীপুরে নিয়ে যাওয়া হয় কচ্ছপগুলোকে।
বনবিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকেরা নিবিড়ভাবে লালন-পালন ও প্রজননের চেষ্টা করেন বাটাগুর বাসকাগুলোকে। তারপরও তেমন সাফল্য পাওয়া যায়নি।
তবে কয়েক বছরে গাজীপুরে প্রায় ৯৪টি বাচ্চা দিয়েছিল ৮টি মা কচ্ছপ। সেখানে ভালো সাড়া না পাওয়ায় ২০১৪ সালে মূল ৮টি বাটাগুর বাসকা ও তাদের জন্ম দেয়া ৯৪টি ছানাসহ করমজল কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়।
