ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে দুই শিশুর ঘাতক মাহবুবুল আলম হানিফ মাদকাসক্ত ছিল। এলাকার লোকজন জানিয়েছেন, দুই ভাগনিকে হত্যার আগে আরো এক শিশুকে জখম করে হানিফ।
এদিকে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ দুই ভাগনিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন মাদ্রাসা ছাত্র মাহবুব।
তিনি আরো জানান, আপন দুই ভাগনিকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত মামা মাহাবুবুলের (২০) বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার রাতে নিহত শিশুদের বাবা মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন।
এক সপ্তাহ আগে কাজীর বলসা গ্রামে ছালাম মুন্সির বাড়িতে সন্তানদের নিয়ে বেড়াতে যান বাড়ির দুই মেয়ে সালমা ও তাঁর বোন হালিমা। সাঙ্গে ছিল দুজনের দুই মেয়ে, ছয় বছরের সায়মা ও পাঁচ বছরের তৃপ্তি।
সোমবার (৭ মার্চ) সকালে বাড়ির পাশের খেলছিলো দুই শিশু। ১১টার দিকে তাদের একমাত্র মামা ১৯ বছরের হানিফ তাদের ডেকে নেয় বিস্কুট দেয়ার কথা বলে। এরপরই আলাদা দুই ঘরে দুই ভাগনিকে গলা কেটে হত্যা করে সে।
আরও পড়ুন: ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ ২৮ যুবকের ১৫ জনই নরসিংদীর
এলাকার লোকজন জানায়, হানিফ মাদকাসক্ত ছিল। শুধু দুই ভাগনিকে হত্যাই নয়, ঘটনার দিন সকালে তৌহিদ মিয়া নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রের ঘাড়ে কোদাল দিয়ে কোপ দেয়।
হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় মসজিদে আশ্রয় নেন মাহাবুব। পরে, স্থানীয়রা তাঁকে আটক করার পর পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদের মিয়া জানান, আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে দুই ভাগনিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে হানিফ। তবে হত্যার কারণ জানায়নি।
ওসি বলেন, দুজন শিশু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত মাহাবুবের বিরুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়াও হত্যার কারণ এবং এর পেছনে কোনো ইন্ধনদাতা আছে কিনা এই বিষয়ে তদন্ত চলছে।
ঈশ্বরগঞ্জের কাদিরপুর গ্রামের আব্দুস সালামের একমাত্র ছেলে হানিফ। সে নারায়ণপুর গ্রামের দারুল উলুম হামিউস সুন্নাহ রহমতপুর মাদ্রাসার, হেফজ বিভাগের অনিয়মিত ছাত্র ছিল।
একাত্তর/এসজে
