বিশ্বজুড়ে চলমান মহামারি করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবায় দৈনিক মৃতের সংখ্যা ক্রমে হ্রাস পাচ্ছে। যদিও আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে প্রাণঘাতী ভাইরাসে নতুন সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা। গেল ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে কোভিড শনাক্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন সাড়ে তিন হাজারের অধিক মানুষ। এই সময়ের মধ্যে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা সোয়া ১৩ লাখ ছাড়িয়েছে।
সর্বশেষ এক দিনে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটল দক্ষিণ কোরিয়ায়। এদিকে দৈনিক প্রাণ হারানোদের তালিকায় এখনো শীর্ষ স্থানে রয়েছে রাশিয়ার নাম। প্রাণহানির তালিকায় এরপরই রয়েছে যথাক্রমে- দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, মেক্সিকো এবং ফিলিপাইন। এতে বিশ্বব্যাপী করোনার থাবায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪৫ কোটি ৮১ লাখের ঘর ছাড়িয়ে গেছে। অপর দিকে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬০ লাখ ৬৫ হাজারে পৌঁছে গেছে।
সোমবার (১৪ মার্চ) বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে মৃত্যু, আক্রান্ত ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডো মিটারস থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে কোভিড সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন তিন হাজার ৫০৯ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার কমেছে। এতে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬০ লাখ ৬৫ হাজার ৭১৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
এই সময়ের মধ্যে প্রাণঘাতী ভাইরাসটিতে নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ১৩ লাখ ২৬ হাজার ৬০৬ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় নতুন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৭৪ হাজার বেড়েছে। এতে মহামারির তাণ্ডব শুরুর পর থেকে ভাইরাসটিতে এ পর্যন্ত শনাক্ত মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৪৫ কোটি ৮১ লাখ ৫২ হাজার ১৬৯ জনে পৌঁছেছে।
এ দিকে গত এক দিনে বিশ্বে করোনার থাবায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা দেখল দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণ। একই সময়ে দেশটিতে নতুন করে কোভিড সংক্রমিত হয়েছেন তিন লাখ ৫০ হাজার ১৭৩ জন। আর মারা গেছেন ২৫১ জন। করোনা মহামারির তাণ্ডব শুরুর পর থেকে পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে এ পর্যন্ত ৬৫ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৩ জন রোগটিতে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১০ হাজার ৩৯৫ জন।
অপর দিকে দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় এখনো শীর্ষ স্থানে রয়েছে রাশিয়ার নাম। একই সময়ে রুশ ভূখণ্ডে করোনার থাবায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৯৬ জন। আর নতুন করে রোগটিতে সংক্রমিত হয়েছেন ৪৪ হাজার ৯৮৯ জন। এছাড়া মহামারির তাণ্ডব শুরুর পর থেকে দেশটিতে এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে এক কোটি ৭৩ লাখ ৩৫ হাজার ১৮৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আর মৃত্যু হয়েছে তিন লাখ ৬০ হাজার ৮১১ জনের।
গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন পাঁচ হাজার ১৪৩ জন। আর মারা গেছেন ১১৮ জন। করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশটিতে এ পর্যন্ত আট কোটি ১১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৭৭ জন রোগটিতে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। আর মারা গেছেন নয় লাখ ৯৩ হাজার ৮১১ জন।
এছাড়া পশ্চিম ইউরোপের দেশ জার্মানিতে নতুন করে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন দুই লাখ ১৩ হাজার ২৬৪ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৩২ জন। করোনা মহামারির তাণ্ডব শুরুর পর থেকে দেশটিতে এ পর্যন্ত এক কোটি ৭২ লাখ ৪০ হাজার ৪৭৯ জন রোগটিতে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ২৬ হাজার ১০৯ জন।
করোনার থাবায় আক্রান্তদের দিক থেকে তৃতীয় ও প্রাণ হারানোদের সংখ্যায় তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে কোভিড আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ১৪৬ জন। আর নতুন করে রোগটিতে সংক্রমিত হয়েছেন ১৮ হাজার ৩৯৭ জন। অপর দিকে মহামারির তাণ্ডব শুরুর পর থেকে দেশটিতে এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দুই কোটি ৯৩ লাখ ৬৮ হাজার ৭৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আর মৃত্যু হয়েছে ছয় লাখ ৫৫ হাজার ১৩৯ জনের।
মহামারি করোনার থাবায় সংক্রমিতদের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ রাষ্ট্র ভারত। যদিও প্রাণঘাতী ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যার তালিকায় দেশটির অবস্থান এখন তৃতীয়। গত এক দিনে দেশটিতে কোভিড আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৭ জন। আর নতুন করে রোগটিতে সংক্রমিত হয়েছেন দুই হাজার ২২২ জন। মহামারির তাণ্ডব শুরুর পর থেকে দেশটিতে এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে চার কোটি ২৯ লাখ ৯৩ হাজার ২১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এদের মধ্যে মারা গেছেন পাঁচ লাখ ১৫ হাজার ৯০৭ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ইউরোপের মুসলিম রাষ্ট্র তুরস্কে নতুন করে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন ১৭ হাজার ৪২৬ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১৩৮ জন। একই সময়ে অঞ্চলটির আরেক রাষ্ট্র ইতালিতে নতুন করে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৮ হাজার ৮৮৬ জন। এদের মধ্যে মারা গেছেন ৮৬ জন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ায় নতুন করে করোনা ভাইরাসে শনাক্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৫৮৫ জন এবং প্রাণ গেছে ২১৫ জন।
গেল এক দিনে ফরাসি ভূখণ্ডে নতুন করে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন ৬০ হাজার ৪২২ জন এবং প্রাণ গেছে ২৯ জন। করোনা মহামারির তাণ্ডব শুরুর পর থেকে দেশটিতে এ পর্যন্ত দুই কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ১৪৪ জন রোগটিতে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন এক লাখ ৪০ হাজার ১০৯ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় পূর্ব এশিয়ার দেশ জাপানে নতুন করে প্রাণঘাতী ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৪ হাজার ৭৫৮ জন। আর মারা গেছেন ১৬৯ জন।
এছাড়া করোনার থাবায় সংক্রমিত হয়ে শেষ এক দিনে ইরানে ১১৮ জন, আর্জেন্টিনায় ৬৫ জন, মালয়েশিয়ায় ৮৭ জন, চিলিতে ৯৪ জন, ফিলিপাইনে ১৬৯ জন এবং থাইল্যান্ডে ৬৬ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। অন্য দিকে নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোতে মারা গেছেন ২০৩ জন। মহামারির তাণ্ডব শুরুর পর থেকে দেশটিতে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে তিন লাখ ২১ হাজার ৫৪ জনের।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এশিয়ার পরাশক্তি চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর গত বছরের ১১ মার্চ প্রাণঘাতী ভাইরাসটিকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এর আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে।
একাত্তর/এসএ
