বহু প্রতীক্ষার পর প্রাণ ফিরলো কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটির। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২তম জন্ম দিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে হাসপাতালের অন্তঃবিভাগের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। এ নিয়ে একই হাসপাতাল চতুর্থবারের মতো উদ্বোধন করা হলো।
বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) সকাল পৌনে ১১টায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালিক এমপি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হাসপাতালটির উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
উদ্বোধন ঘোষণার সময় মন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রী বদ্ধ পরিকর। করোনা মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশের তুলনায় আমরা এগিয়ে। এ পর্যন্ত আমরা দেশের ৮০ শতাংশ জনগণকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের ভ্যাকসিন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মহিচাইলের ওই ২০ শয্যা হাসপাতালটি চালুর মাধ্যমে চান্দিনা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণের স্বাস্থ্য সেবা দোড় গোড়ায় পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

জানা যায়, ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পর চান্দিনা উপজেলার মধ্যবর্তী এলাকা মহিচাইলে তিন কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মিত হয়। ২০০৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সাবেক সংসদ সদস্য ড. রেদোয়ান আহমেদের উদ্যোগে তৎকালীন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন। ১/১১ এর পর থেকে হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ এমপি’র হাত ধরে ২০১০ সালের ৩০ এপ্রিল তৎকালীন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. আ.ফ.ম রুহুল হক দ্বিতীয় বারের মতো হাসপাতালটির কার্যক্রম চালু করেন। তাতেও আশার আলো দেখেনি এলাকাবাসী। কয়েকদিন চলার পর আবারও বন্ধ! ২০১৪ সালে আবারও আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর ২০১৫ সালের ২৭ জুলাই তৃতীয় বার উদ্বোধন করেন সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ। আর ওই উদ্বোধনেই সীমাবদ্ধ ছিল হাসপাতালটির কার্যক্রম। বন্ধ হয়ে যায় অন্তঃবিভাগ সেবা, রোগী ভর্তি, পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ সকল কার্যক্রম। কমিউনিটি ক্লিনিকের মত সেবা দিয়ে আসছিল ২০ শয্যার হাসপাতালটি।
এদিকে নির্মাণের প্রায় দেড় যুগে নষ্ট হয়ে গেছে হাসপাতালটির দরজা-জানালা থেকে শুরু করে অবকাঠামো।
চান্দিনার পাঁচ বারের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ ২০২১ সালে জুলাই মাসে মৃত্যুর পর শূন্য আসনের উপ-নির্বাচনে নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর হাসপাতালটি পূর্ণরূপে চালু করতে উদ্যোগ নিয়ে শুরু করেন সংস্কার কাজ।
অবশেষে চতুর্থবারের মত চালু হলো মহিচাইল ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের কার্যক্রম। ওই উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে মহিচাইল ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে প্রতিনিয়ত রোগীর সেবা মিলবে এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত এমপি’র সভাপতিত্বে এসময় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. ফাতেমা রহমান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা তপন বকসী, কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসেন, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউল হক মীর, সহকারী পুলিশ সুপার ফয়েজ ইকবাল, পৌর মেয়র শওকত হোসেন ভুঁইয়া, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাফিয়া আক্তার, চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আরিফুর রহমান প্রমুখ।
একাত্তর/এসি
