খুচরা বাজারে ভোজ্যতেলের দাম আট টাকা কমিয়ে ১৬০ টাকা পুনঃনির্ধারণ করেছে সরকার। আগামী ঈদুল ফিতর পর্যন্ত এই দাম বহাল থাকবে বলে সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
তাছাড়া পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় ঈদে ভোজ্যতেলের কোন ঘাটতি হবে না বলেও জানালেন বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ ও ব্যবসায়ীরা।
টানা কিছুদিন অস্থিরতার পর আরেক দফা কমতির দিকে ভোজ্য তেলের বাজার। দেশের বাজার পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত দাম কমাতে ভোজ্যতেল আমদানিতে ১০ শতাংশ ভ্যাট তুলে নিয়ে পাঁচ শতাংশে এবং বিপণন ও পরিশোধন পর্যায় থেকেও ভ্যাট তুলে নেয় সরকার। এরপরই কমতে শুরু করে ভোজ্য তেলের দাম।
রোববার (২০ মার্চ) ভোজ্যতেলের দাম নিয়ে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে মিল ও রিফাইনারি মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে সচিব জানান আগের নির্ধারিত দরের চেয়ে লিটার প্রতি বোতলজাত সয়াবিন তেল আট টাকা ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম সাত টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, আগামী ঈদুল ফিতর পর্যন্ত বহাল থাকবে। আর পাম অয়েলে দাম নির্ধারণে মঙ্গলবারের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে। সয়াবিন তেলে নতুন সোমবার থেকে মিলগেটে কার্যকর হবে। বাজারে কার্যকর হতে আরও ৫-৭ দিন সময় লাগবে।
তিনি জানান, সয়াবিন তেল এক লিটারের পেট বোতলের নতুন দাম ১৬০ টাকা এবং পাঁচ লিটার ৭৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর, খোলা তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৬ টাকা লিটার। বর্তমানে বাজারে তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে।
তেলের কোনো সঙ্কট নেই উল্লেখ করে বাণিজ্য সচিব ও ব্যবসায়ীরা জানান দেশে ভোজ্যতেলের সরবরাহে কোন ঘাটতি নেই। তাই ঈদের আগে আর বাজারে তেলের কোন সংকট বা দাম বেশি হবে না। ঈদ পর্যন্ত তেলের কোনো ঘাটতি হবে।
আরও পড়ুন: ফ্যামিলি কার্ডে টিসিবির পণ্য কারা পাবেন?
সংবাদ সম্মেলনে টিকে গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার বলেন, এখন যে তেল আমদানি করা হয়েছে তার ট্যাক্স, ভ্যাট আগের হারেই দিয়ে দেয়া হয়েছে। বাজারে তেলের দাম কমানোর ফলে ওই ট্যাক্স, ভ্যাট রিফান্ড করার অনুরোধ করেন তিনি।
ঈদের পর আন্তর্জাতিক বাজার বিবেচনায় তেলের দাম পুনঃনির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। আর সরকার নির্ধারিত এই দর কার্যকর হচ্ছে কিনা সেটি তদারকি করতে মাঠে থাকবে প্রশাসন।
একাত্তর/এসএ
