রাজধানীর ডায়রিয়া পরিস্থিতির কোন উন্নতি হয়নি। আগের দিনের মতো শুক্রবারও কমপক্ষে ১,২০০ রোগী মহাখালীর আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। এছাড়া সেখানে একই সমস্যায় ভর্তি থাকা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় হাজার। কর্তৃপক্ষ বলছে, নমুনা পরীক্ষায় বেশিরভাগ রোগীর দেহেই কলেরার জীবাণু ধরা পড়েছে।
হাসপাতালের তথ্য বলছে, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের যে সব এলাকায় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি চলছে, সেসব এলাকা থেকে রোগী বেশি আসছে। মনে করা হচ্ছে, বায়ু ও পানি দূষণের ফলে দ্রুত ছড়াচ্ছে কলেরার জীবাণু।
শুক্রবারও সরেজমিনে মহাখালীর আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেলো রোগীর চাপ আগের দিনের মতোই। একের পর এক রোগী আসছে। চাপ সামলাতে হাসপাতালের বাইরে তাঁবু টানিয়ে আরও দুটি অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র তৈরি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
আইসিডিডিআরবি জানায়, রাজধানীতে ডায়রিয়া ও কলেরার প্রকোপ রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার থেকে বুধবার ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১,২৭২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। যা অতীতের একদিনের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, অতিরিক্ত গরম আর বাইরের দূষিত পানি ও অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার কারণেই এমন পরিস্থিতি হচ্ছে। রোগীদের বেশীরভাগই হাসপাতালে আসছেন পানি শুণ্যতা নিয়ে। বড়দের চেয়ে শিশুরা বেশী খারাপ অবস্থা নিয়ে হাসপাতালে আসছে। যাদের অনেকেরই আইসিইউর দরকার হচ্ছে।
চিকিৎকরা বলছেন, সময় মতো লবণ-পানির স্যালাইন না খাওয়ানোর কারণেই রোগীদের অবস্থা খারাপ হচ্ছে। নমুনা পরীক্ষায় বেশিরভাগ রোগীর শরীরেই কলেরার জীবাণু মিলেছে। রোগীদের তথ্যের ভিত্তিতে ডাক্তাররা বলছেন, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের যে সব এলাকায় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি চলছে; সেসব এলাকা থেকে রোগী বেশী আসছে।
যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর, দক্ষিণখান থেকে ডায়রিয়া আক্রান্ত মানুষ বেশি আসছে। এছাড়া রাজধানীর অন্যান্য জায়গায়ও রোগী শনাক্ত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: টিপুকে হত্যা করতে খুব কাছ থেকে ১০ রাউন্ড গুলি
চিকিৎসকরা জানান, এখন প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১,২০০ রোগী ভর্তি হচ্ছেন। আইসিডিডিআরবির সবশেষ গবেষণা বলছে, বড়দের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ কলেরা, ইকোলাই ব্যাকটেরিয়া, শিশুদের শরীরে রটা ভাইরাসহ বিভিন্ন ধরণের ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
রাজধানীতে হঠাৎ গরম বাড়ার এই সময়ে রাস্তার খোলা খাবার, শরবত ও ফুটপাথে বিক্রি করা কাটা ফল না খেতে বলছেন চিকিৎসকরা।
একাত্তর/এসি
