সিলেটের বিজ্ঞানভিত্তিক লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ (৩২) হত্যা মামলায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই মমলায় খালাস পেয়েছেন আরেক ব্লগার সাফিউর রহমার ফারাবী।
বুধবার (৩০ মার্চ) বেলা পৌনে ১টার দিকে সিলেটের সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক নুরুল আমীন বিপ্লব এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার আবুল হোসেন (২৫), খালপাড় তালবাড়ির ফয়সাল আহমদ (২৭), সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বিরেন্দ্রনগরের (বাগলী) মামুনুর রশীদ (২৫) ও কানাইঘাটের ফালজুর গ্রামের আবুল খায়ের রশীদ আহমদ (২৫)। আসামিদের মধ্যে আবুল হোসেন, ফয়সাল আহমদ ও মামুনুর রশীদ পলাতক রয়েছেন।
ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ আইনজীবী (পিপি) মুমিনুর রহমান টিটু সাংবাদিকদের জানান, রায় ঘোষণার সময় আবুল খায়ের রশীদ আহমদ এবং সাফিউর রহমান ফারাবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর তিন আসামি পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অনন্ত পেশায় একজন ব্যাংকার ছিলেন। বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি ‘যুক্তি’ নামে বিজ্ঞানবিষয়ক একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। ২০১৫ সালের ১২ মে সিলেট নগরের সুবিদবাজারে নুরানি আবাসিক এলাকার নিজ বাসার সামনে খুন হন অনন্ত।
ওই হত্যাকাণ্ডের পর অনন্তের বড় ভাই রত্নেশ্বর দাশ বাদি হয়ে সিলেট বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। বিজ্ঞান বিষয়ে লেখালেখির কারণেই ‘উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী’ পরিকল্পিতভাবে অনন্তকে খুন করেছে বলে অভিযোগ করা হয়।
আরও পড়ুন: বিমসটেক সম্মেলনে বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের আহবান প্রধানমন্ত্রীর
মামলাটি পুলিশ থেকে অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) স্থানান্তর করা হয়। সিআইডির পরিদর্শক আরমান আলী তদন্ত করে ২০১৭ সালের ৯ মে সম্পূরক অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন।
পুলিশের অভিযোগপত্রে সন্দেহভাজন আটক ১০ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়। সবশেষ ১৪ মার্চ পলাতক তিন আসামির বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সিলেটের সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক নুরুল আমীন বিপ্লব রায় ঘোষণার জন্য আজকের তারিখ ধার্য করেন।
একাত্তর/আরবিএস
