একাত্তর টেলিভিশনে সংবাদ প্রচারের পর, যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের নির্যাতনের অভিযোগের ঘটনায় এসআই বিশ্বজিৎ সরকারসহ চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এরা হলেন- যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিশ্বজিৎ সরকার, কনস্টেবল শওকত ও নারী কনস্টেবল নবনিতা। আর এক আনসার সদস্যকে বাহিনীতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি হয়েছে। দায়ী পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে পুলিশের হস্তক্ষেপে ভুক্তভোগীর বাড়িতে পানির সংযোগ দেয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থল যাত্রাবাড়ীর বিবিরবাগিচা এলাকা। সেখানের এক সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায় এক নারীকে বেধড়ক মারধর করছেন যাত্রাবাড়ি থানার কন্সটেবল নবনিতা।
যাদের উপর নির্যাতন করা হয়েছে, তারাই প্রতিবেশীর সাথে বিবাদের জেরে হামলা ঠেকাতে ট্রিপল নাইনে ফোন দিয়ে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছিলো।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এলাকার কিছু প্রভাবশালী ও প্রতিবেশী বাড়িওয়ালের প্রভাবে পুলিশ সে রাতে উল্টো তাদের উপরই চড়াও হয়ে। এনিয়ে শুক্রবার রাতে একাত্তর টিভিতে সংবাদ হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার শাহ ইফতেখার আহমেদ জানান, যাত্রাবাড়ি থানার সাব ইন্সপেক্টর বিশ্বজিৎ সরকার, কনস্টেবল নবনিতা ও শওকতসহ চারজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ওয়ারি বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ (এডিসি) কমিশনার কামরুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বাড়ির সামনে যে দেয়াল তোলা নিয়ে দুই পক্ষের বিবাদ, সেই দেয়াল শুক্রবার রাতে পুলিশের হস্তক্ষেপে ভেঙ্গে দেয়া হয়। সংযোগ দেয়া হয় পানির লাইন। আটদিন পর পানি পেয়ে দুর্বিষহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেলেন ১৬টি পরিবার।
আরও পড়ুন: বিদেশে পাঠানোর টাকা নিয়ে জাল ভিসা ও টিকেট!
বাড়ির মালিক খায়ের আলম মোল্লা বলছেন, একাত্তর টিভিতে সংবাদ প্রচারের পর সামাজিক ও পুলিশি চাপে হাজি নুরুল ইসলাম দেয়াল ভাঙ্গতে দিলেও দিচ্ছেন না সুয়ারেজ লাইন।
অন্যদিকে হয়রানি মূলক মামলায় তার চিকিৎসক ছেলে এখনও কারাগারে। এই ঘটনার জেরে ভবিষ্যতে আর কোন সংঘাত চান না এলাকাবাসী।
একাত্তর/এসি
