শেষ দিনেও ভোগান্তি ছাড়লো না সড়কপথে রাজধানী ছাড়া মানুষদের। বাসের অভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা টার্মিনালগুলোতে অপেক্ষায় ছিলেন হাজারো যাত্রী।
আর, এক প্রশাসন আর তদারকি টিমের সামনেই যাত্রীদের কাছ থেকে চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি ভাড়া নিয়েছে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। প্রশাসন বলছে, অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
শনিবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেল তখনও হাজারো যাত্রীর ভিড়। এদের কারও কারও অপেক্ষা আগের রাত থেকে। কেউ বা এসেছেন ভোরে।
কিন্তু মহাসড়কে তীব্র যানজটের কারণে কোন বাসই সময়মতো টার্মিনালে এসে পৌঁছাতে পারছে না। যেতেও জট, আসতেও জট। এই দুই জটেই বাস টার্মিনালগুলো দিনভর ফাঁকা।
অপেক্ষার প্রহর গুণে টার্মিনালে দুর্বিষহ সময় পার করেছেন ঘরমুখো যাত্রীরা। প্রচণ্ড গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাউন্টারে বসে থেকে ঈদযাত্রীদের হাঁসফাঁস অবস্থা।
উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীদের বাস পেতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা কোথাওবা তারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমের কারণে এই অপেক্ষা যন্ত্রণায় পরিণত হয় যাত্রীদের কাছে।

কাউন্টারগুলো থেকে বলা হচ্ছে, কোরবানির পশুর হাটের কারণে ঢাকায় ঢোকার পর বাসগুলো তীব্র যানজটের মুখোমুখি হচ্ছে। ফলে মহাসড়কে ছুটতেই দেরি হয়ে যাচ্ছে তাদের।
তবে, শনিবার বাস টার্মিনালে আগের দিনের তুলনায় যাত্রী চাপ অনেক কম ছিলো। কাউন্টার ম্যানেজাররা জানিয়েছেন, প্রায় প্রতিটি কোম্পানির বাস ৩-৪ সিট ফাঁকা রেখে টার্মিনাল ছাড়ছে।
আবার সন্ধ্যা পর বা রাতে যেসব বাস বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে সেগুলোর ১০-১২টা করে সিট এখনো ফাঁকা। সিট ফাঁকা থাকলেও বাড়তি ভাড়াই আদায় করেছে বাসগুলো।
আগাম টিকেট না কাটা যাত্রীদের গুণতে হয়েছে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া। নগরীর মহাখালী বাস টার্মিনালের ভেতরেই ছিলো ভ্রাম্যমাণ আদালত ও পুলিশের টহল।
তারপরও ভাড়া নৈরাজ্য থেকে রেহাই পাননি যাত্রীরা। যাত্রীদের অভিযোগ, সিট ফাঁকা থাকলেও যারা অগ্রিম টিকেট সংগ্রহ করেননি তাদের বাড়তি ভাড়া দিয়ে টিকেট নিতে হচ্ছে।
মহাখালী বাস টার্মিনালে যে পরিমাণ যাত্রী আর যতো গাড়ি ছিলো তাতে অনায়াসেই মানুষের দুর্ভোগ কমানো যেতো।
কিন্তু ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিল বাসগুলো। পরিবহন নেতাদের ইশারায় ভাড়া নৈরাজ্য চালিয়ে গেছে শ্রমিকরা।
গাবতলী টার্মিনালেও ছিলো একই চিত্র। ঈদ যাত্রার শেষ দিনে বাস না পেয়ে নানা বাহনে ভেঙে ভেঙে দূরের যাত্রায় নামেন উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীরা।
আরও পড়ুন: করোনায় শনাক্ত হাজারের নিচে, মৃত্যু তিন
সেখানেও মানুষের পকেট কেটেছে সব রকমের বাহন। বছরের অন্যান্য সময় যে ভাড়া থাকে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, সেটিই এখন কাটতে হয়েছে ১০০০ টাকায়।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অনেকে বেশি ভাড়া আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছেন, যানজটের কারণে তাদের ট্রিপ কমে গেছে, এ কারণে কিছুটা বেশি ভাড়া আদায় করছেন তারা।
তবে ঈদযাত্রার শেষ দিনে ভিন্ন চিত্র ছিলো সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে। সেখানে যাত্রীদের চাপ না থাকায় স্বস্তিতেই বাড়ি ফেরার সুযোগ পেয়েছে মানুষ।
