টাঙ্গাইলে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ছয়জনের মধ্যে বগুড়ার এক মা ও ছেলে রয়েছেন। তারা কুমিল্লা থেকে মাইক্রোবাস ভাড়া করে বাড়ি ফিরছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পাড়ের গোলচত্বর টোলপ্লাজার সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ দুর্ঘটনায় আরও চারজন নিহত এবং অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত মা-ছেলে হলেন মালিকা বানু রুবি (৬৫) ও রিফাত আল হাসান (৩৬)। তারা বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার বাসিন্দা।
জানা গেছে, রিফাত জলেশ্বরীতলা এলাকায় ব্যবসা করতেন। এ ছাড়াও তিনি সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
নিহতদের নাম-পরিচয় জানিয়েছেন রিফাতের বাবা প্রকৌশলী হেলালউদ্দিন। তিনি জানান, প্রায় দেড় সপ্তাহ আগে চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা সেনানিবাসে বসবাসরত মেয়ের বাসায় যান তার স্ত্রী রুবি।
চিকিৎসা শেষে মাকে আনতে ছেলে রিফাত মঙ্গলবার কুমিল্লায় যান। বৃহস্পতিবার মাইক্রোবাস ভাড়া করে বগুড়ায় ফিরছিলেন মা-ছেলে। পথে টাঙ্গাইলে একতা পরিবহন নামে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মারা যান তারা দুজনেই।
হেলালউদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার পর টাঙ্গাইল থেকে ফোন করে তার স্ত্রী ও ছেলের মৃত্যুর খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে বগুড়া থেকে তার ভাগ্নি ও কুমিল্লা থেকে মেয়ে-জামাই টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন।
টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা একতা পরিবহনের একটি বাস ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। অপরদিকে টাঙ্গাইল থেকে একটি মাইক্রোবাস আসছিল। গোলচত্বর টোল প্লাজার সামনে এলে বাসটি আইল্যান্ড ভেঙে মাইক্রোবাসটিকে ধাক্কায় দেয়।
আরও পড়ুন: মোল্লাহাটে চাচাতো ভাইদের হামলায় আহত ব্যক্তির মৃত্যু
এতে বাস ও মাইক্রোর সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেয়ার সময় দুইজন এবং হাসপাতালে নেয়ার পর একজন মারা যান। নিহতদের মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত ছয়জনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু সেতু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, নিহতদের মধ্যে দুজন বগুড়ার। বাকিরা পাবনা, নাটোর ও কুমিল্লার বাসিন্দা।
একাত্তর/এসজে
