জিয়ার আমলে সামরিক আদালতে সাজা কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২২, ০৯:১০ পিএম

জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বিমান বাহিনীতে বিদ্রোহের ঘটনায় সামরিক আদালতের সাজা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। 

সেই সাথে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও দণ্ডিতদের চাকরির অবসরের সময় পর্যন্ত বেতন ভাতা ও পেনশনের সুবিধা কেন দেয়া হবে না তাও জানতে চেয়েছে উচ্চ আদালত। 

এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

১৯৭৫ সালের বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন জিয়াউর রহমান। হন সেনাপ্রধান। ৭৬ সালে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দখল করেন ক্ষমতা। 

পরের বছরই নেন রাষ্ট্রপতির পদও। ৭৭ সালের ২ অক্টোবর ভোররাতে বিমান বাহিনীতে বিদ্রোহ হয়। কঠোরভাবে সেই বিদ্রোহ দমন করেন এই সাবেক সেনা শাসক। 

সামরিক আদালতের সংক্ষিপ্ত ও গোপন বিচারে ১১ জন অফিসারসহ ১,৪৫০ বিমান সেনাকে ফাঁসিতে হত্যা করা হয়। বরখাস্ত ও চাকরিচ্যুত হন চার হাজার সেনা। নিখোঁজ হন অসংখ্য। 

এই ঘটনা ছাড়াও, সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখলের পর সামরিক বাহিনীতে অনেকগুলো বিদ্রোহ-অভ্যুত্থানের চেষ্টা চলেছিলো। যাতে জড়িতদের একই রকম বিচারে মৃত্যুদণ্ডসহ নানা সাজা দেয়া হয়েছিল। 

১৯৭৬ সালে এ রকম এক বিচারে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত কর্নেল আবু তাহেরের বিচার ইতোমধ্যে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট।

যাতে জড়িতদের সামরিক আদালতে বিচার করে মৃত্যুদণ্ডসহ নানা সাজা দেয়া হয়। ১৯৭৬ সালে এ রকম এক বিচারে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত কর্নেল আবু তাহেরের বিচার ইতোমধ্যে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট।

সেই সামরিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও সাজাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ ৮৮টি পরিবারের পক্ষে ২০১৯ সালে এই রিট আবেদনটি করা হয়। সেটির শুনানির পর মঙ্গলবার ওই রুল দিলো আদালত। 

image


রুলে সামরিক আইনে গঠিত ট্রাইব্যুনালের বিচার অবৈধ ঘোষণা করে কেন আবেদনকারীদের দেশপ্রেমিক হিসেবে বিবেচনার নির্দেশনা দেয়া হবে না সেটিও জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। 

একইসঙ্গে সরকারি চাকরিতে আবেদনকারীদের পরিবারের সদস্যদের সার্ভিস অব ওয়ার্ড প্রদানে কেন বিবাদীদেরকে নির্দেশনা দেওয়া হবে না তাও জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।

চার সপ্তাহের মধ্যে প্রতিরক্ষা সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। 

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মতিউর রহমান।

রিটের পরে মতিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, মার্শাল ল’ রেগুলেশন অ্যাক্ট ১৯৭৭ দ্বারা সামরিক আদালতে জিয়াউর রহমান অন্যায়ভাবে বিচার করেছিল। 

সেই বিচারে যাদের ফাঁসি হয়েছিল, যাদের যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছিল এবং যারা চাকরিচ্যুত হয়েছিল সেসব ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণের আওতায় আনার জন্য রিট আবেদনটি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বারবার কেন দুর্ভিক্ষের কথা বলা হচ্ছে, প্রশ্ন ফখরুলের

এছাড়া যারা মারা গেছেন তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পোষ্যদের যাতে সরকারি চাকরিতে অ্যাকোমোডেট করার আর্জি জানানো হয়েছিলো।

৮৮ জনের মধ্যে ১৩ জন মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত, ৩৩ জন যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত। আর বাকি ৪২ জন চাকরিচ্যুত।

উল্লেখ্য, এক রায়ে হাই কোর্ট বলেছিলো, ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্টের পর খন্দকার মোশতাক আহমেদ, বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা গ্রহণ ছিলো সংবিধান-বহির্ভূত ও বেআইনি।


একাত্তর/এসি

কানাডার সাস্কাচুয়ানে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩১ মে সন্ধ্যায় স্থানীয় মে-ফেয়ার ইউনাইটেড চার্চে এই...
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ...
মহান স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৯তম জন্মবার্ষিকীতে জিয়া পরিবারের প্রয়াতদের আত্মার মাগফিরাত ও তার স্ত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও জ্যেষ্ঠপুত্র বিএনপির...
সারাদেশের অধস্তন আদালতের প্রায় অর্ধশত বিচারক ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার অবিশ্বাস্য সম্পদ ও দুর্নীতির তদন্ত চেয়ে করা রিট খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের মহাকাব্যিক জয় শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্রফি অর্জন আর রূপকথার গল্প নয়, এটি ছিল ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজংশে ব্যাটন হস্তান্তরের স্মারক। ফুটবল...
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ইনজুরি টাইমে ফেরান তোরেসের অবিশ্বাস্য গোল স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখেছে। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশকে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর