সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডে পানির দাবিতে শনিবার (২২ অক্টোবর) সকালে বালতি-ঝাড়ু নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী।
বিক্ষোভের সময় ওয়াসার পানির গাড়ি আসলে গাড়ির সামনে বিক্ষোভ করেন বাসিন্দারা। পানি সঙ্কট না গেলে ওয়াসা অফিস ঘেরাও করার ঘোষণা দেন তারা।
এরপর ওয়াসার টেকনিশিয়ানরা আসলে দিনভর দফায় দফায় এলাকাবাসীর বিক্ষোভের মুখে পড়ে। বাড়তি টাকা দিয়ে পানির গাড়ি থেকে কিনে আপাতত প্রয়োজন মেটাতে বলছে ওয়াসা। কিন্তু এ সুযোগে এলাকাটিতে শুরু হয়েছে পানির গাড়ি নিয়ে বাণিজ্য। গাড়িতে করে পানি বাসাবাড়ির ট্যাংকিতে দিতে গিয়েও ৪০০ টাকার পানির জন্য ওয়াসার ড্রাইভাররা দাম হাঁকছেন ৭০০ টাকা।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরেই চলছিল পানির অভাব। কিন্তু বুধবার মালিবাগ মোড়ে ওয়াসার কর্মীরা পানির লাইনে কাজ করার পর থেকে একেবারেই পানি আসা বন্ধ। এক্ষেত্রে কারসাজি হতে পারে বলেও অভিযোগ অনেকের।
ওয়াসা প্রতিদিনই বলছে, ২৪ ঘন্টার মধ্যে সঙ্কট কেটে যাবে। কিন্তু সেই ২৪ ঘন্টা ৪ দিনেও শেষ হয়নি। বরং সঙ্কট আরো প্রকট আকারে দেখা দিয়েছে। শনিবার বিক্ষোভের পর বিভিন্ন পাম্পে ওয়াসার কর্মচারীরা পর্যবেক্ষণে গেলেও সমাধানের কোন নির্দিষ্ট সময় বলছেন না তারা।
সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডের বাসিন্দারা জানান, স্বাধীনতার আগে থেকে এ পর্যন্ত এ এলাকায় কোনদিনও এমন পানিশূন্য পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। হাজার দুয়েকের বেশি বাসিন্দা থাকেন এ এলাকায়। তাদের অনেকেই পানির অভাবে রান্না করতে না পেরে দোকান থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন।
তারা আরও জানান, পানির অভাবে শিশু ও বয়স্কদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অনেকেই এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে গিয়ে থাকছেন। স্থানীয় মসজিদ নামাজের ওযু কিংবা সিদ্ধেশ্বরী কালিমন্দিরের পূজার জন্যও পানিরও অভাব দেখা দিয়েছে। পানি ছাড়া এই অমানবিক পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের অনুরোধ তাদের।
একাত্তর/এআর
