সুন্দরবনের দস্যুদের হাতে ছয় দিন অপহৃত থাকার পর মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন শরণখোলার চার জেলে।
তারা হলেন- সোনাতলা গ্রামের মো. সালাম ফরাজী, ইমাম খান, সলেমান খান ও ইউসুব হাওলাদার।
বাড়ি ফেরা সালাম ফরাজী জানান, ১৪ ডিসেম্বর রাতে বনের অরমল খাল থেকে দস্যুরা তাদের অপহরণ করে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। সেই টাকা দিতে না পাড়ায় বনের মধ্যে তাদের ছয় দিন আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরে নগদ ১০ হাজার টাকা এবং নৌকার মাছ দস্যুদের দিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বাকি টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিলে দস্যুরা তাদের ছেড়ে দেয়। মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে তারা শরণখোলা বাজার ঘাটে আসেন।

তিনি জানান, ওই খালে মুক্তিপণের দাবিতে আরও ১০/১৫টি ট্রলার নৌকা আটকে রেখেছিল দস্যুরা। তারা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে গেছে। তবে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে না পাড়ায় একটি ফিশিং ট্রলার অরমল খালে এখনও আটকা আছে। বনদস্যুরা বনের ছাপড়াখালী এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে।
এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর শরণখোলা রেঞ্জ অফিস থেকে পারমিট করে বনের অরমল এলাকায় মাছ ধরতে যান ওই জেলেরা। পরে সশস্ত্র একদল দস্যু তাদের নৌকা থেকে তুলে নিয়ে বনের মধ্যে আটকে রাখে এবং ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে।
এদিকে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও সুন্দরবনে আবারও ডাকাত দলের তৎপরতা বেড়েছে। এতে আতঙ্কে রয়েছেন সাধারণ জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা। এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর মুক্তিপণের দাবিতে ১০ জেলেকে অপহরণ করে একদল ডাকাত। এসময় তারা জেলেদের কাছ থেকে প্রায় সাত মণ কাঁকড়া, প্রায় ২০টি মোবাইল ফোন ও দুটি জেলেনৌকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
শনিবার রাতে (১৭ ডিসেম্বর) অপর জেলেরা বাড়ি ফিরে এসে এ খবর জানায়। তবে অপহৃত সেই জেলেদের এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

প্রকাশ না করার শর্তে ফিরে আসা কয়েকজন জেলে জানান, পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই, জিউধারা ও ধানসাগর স্টেশন থেকে পারমিট নিয়ে বনের বেড়ীর খাল এবং অরমাল খালে রাতে ৮-১০টি নৌকায় তারা কাঁকড়া শিকার করছিলেন। এসময় ৯ জনের একদল ডাকাত আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা করে। ডাকাত দল জেলেদের কাছে থাকা মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও তাদের শিকার করা কাঁকড়াসহ দুইটি নৌকা ছিনিয়ে নেয়। এরপর মাথাপিছু ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণের দাবিতে ১০ জন জেলেকে অপহরণ করে।
এসময় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে টাকা দিলে তাদের হত্যা করাও হুমকি দেয়। অপহৃত জেলেদের মধ্যে থেকে তিন জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন, মোরেলগঞ্জ উপজেলার জিউধরা গ্রামের আসাদুল হাওলাদার (৩৫), ডৌয়াতলা গ্রামের হানু (৪৫) ও বাগেরহাটের ডেমা এলাকার সোহেল (৩৫)।
আরও পড়ুন: মেসিকে আনতে উদ্যোগ নিচ্ছে ঢাকা

এ ব্যাপারে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা সুফল রায় জানান, জেলেদের মাধ্যমে তারা ডাকাতির খবর জেনেছেন। বনবিভাগের টহল জোরদার করা হয়েছে। শরণখোলা থানাপুলিশ এবং বনবিভাগ যৌথভাবে গত রাতে সুন্দরবনে টহল দিয়েছে।
শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইকরাম হোসেন জানিয়েছেন সুন্দরবনে অপহৃতদের উদ্ধারে তাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
একাত্তর/এসি
