গত মার্চ মাসে বাড়িতে ঢুকে গুলি করা হয়েছিল বাবা, মা, ভাই ও স্ত্রীকে। সেই ঘটনার আড়াই মাস পার হতে না হতেই এবার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে মো. রাশেদ কাজী নামের ওই যুবককে। পুলিশ বলছে, রাশেদের পরিচিত ব্যক্তিরাই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
মঙ্গলবার (২ জুন) বেলা সোয়া ১১টার দিকে খুলনা মহানগরের লবণচরা থানার স্কুলভিটা এলাকার একটি স্কুলের সামনে এই হত্যার ঘটনা ঘটে।
নিহত রাশেদ কাজী (২৮) লবণচরা থানার কৃষ্ণনগর এলাকার কাজী আনিসুর রহমানের ছেলে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাশেদের পরিচিত এক যুবক কৃষ্ণনগরের বাড়ি থেকে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। রাশেদ তার সঙ্গে হেঁটে স্থানীয় স্কুলভিটা এলাকার একটি স্কুলের সামনে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা কয়েকজন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় রাশেদকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (খুমেক) নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্বজনদের অভিযোগ, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং এর সূত্রপাত বেশ আগে থেকেই। এর আগে গত ১৯ মার্চ দুর্বৃত্তরা রাশেদের বাড়িতে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। সে সময় তার বাবা কাজী আনিসুর রহমান, মা মঞ্জুয়ারা বেগম, বড়ো ভাই রাইসুল ইসলাম ও স্ত্রী ফাহিমাকে গুলি করে জখম করেছিল দুর্বৃত্তরা। সেই যাত্রায় পরিবারের সদস্যরা বেঁচে গেলেও আড়াই মাসের মাথায় এবার রাশেদকে প্রাণ হারাতে হলো।
লবণচরা থানা-পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকেই জড়িত ব্যক্তিরা পলাতক রয়েছে। তবে অপরাধীদের শনাক্ত করা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে রাশেদের পরিচিতরাই এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল ইতিমধ্যে অভিযানে নেমেছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
