বিশ্বকাপ ফুটবলের কাতার আসরের ফাইনাল ম্যাচ শেষ হতেই পরাজিত দল ফ্রান্সের হয়ে গলা চড়িয়েছে দেশটির তাবৎ সংবাদ ও গণমাধ্যম। তাদের দাবি নিয়মভঙ্গ করে গোল করেছেন মেসি। তাই বাতিল করা হোক খেলার ফল। আবারো যেন ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
এমন সব আজব আবদারের পাশাপাশি ফাইনালের রেফারির পিঠের চামড়াও তুলে নিতে চেয়েছে ফরাসি সমর্থকরা। এনিয়ে বড়ই চাপের মধ্যে ছিলেন রেফারি সিমোন মারসিনিয়াক। শেষ পর্যন্ত সেই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। স্বীকার করেছেন ভুলের কথা।
রেফারি সিমোন জানান, আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্সের ম্যাচে তিনি একটি ভুল করেছিলেন। তার এই স্বীকারোক্তির পরে উত্তাল ফুটবল দুনিয়া, বিশেষ করে ফরাসিরা রীতিমতো মারমুখো এখন। দাবি তুলেছেন বাতিল করা হোক মেসির সেই গোল।

ফাইনালের পরেই গোলের ভিডিও ভাইরাল হয়। তাতে দাবি করা হয়, অতিরিক্ত সময়ে মেসি যে গোলটি করেছেন তা বাতিল করা হোক। কারণ, ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে- মেসি যখন গোল লক্ষ্য করে শট মারছেন সেই সময়ে মাঠের মধ্যে ঢুকে পড়েছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা।
রিজার্ভ বেঞ্চে থাকা ফুটবলাররা যদি মাঠে উপস্থিত থাকেন, আর সেই সময়ে সেই দল গোল করে, তাহলে গোলটি বাতিল করার কথা লেখা রয়েছে ফিফার নিয়মে। সেই যুক্তিতেই সরব ফুটবলপ্রেমীরা। কী করে বিষয়টি রেফারির নজর এড়ালো, সেই অভিযোগও আনা হয়েছে।
এ ঘটনা নিয়ে প্রথমবার মুখ খুলেন পোলিশ রেফারি সিমোনা। ওয়ারশ’তে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্বীকার করেছেন, ফাইনাল খেলাতে গিয়ে তার ভুলের কথা। সেই সঙ্গে এমবাপ্পের গোলের একটি ছবিও দেখিয়েছেন তিনি।
রেফারির বক্তব্য, এই ছবিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, এমবাপ্পের গোলের সময়ও মাঠে ঢুকে পড়েছেন একাধিক ফরাসি ফুটবলার। তাহলে সেটা নিয়ে কেউ মুখ খুলছেন না কেনো? তবে সিমোন মেনে নিয়েছেন, একটা সময়ে ফ্রান্সের আক্রমণ থামিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
সিমোন বলেন, সেই সময় বিশ্রী ফাউল করেছিল আর্জেন্টিনার মার্কোস আকুনা। তখন ফ্রান্স পুরোদমে আক্রমণ করছিলো। কিন্তু আমার মনে হয়েছিলো ওই সময়ে খেলা থামিয়ে কার্ড দেখানো উচিৎ। সেটা হয়তো না করলেও হতো। এছাড়া আর কোনো ভুল হয়নি ফাইনালে।

এদিকে, বিশ্বকাপ ফাইনালে তুমুল লড়াইয়ের পর দলের হার এখনও হজম করতে পারেননি ফরাসি সমর্থকরা। উল্টো তাদের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিয়ে একটি পিটিশন শুরু করে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা।
ওই পিটিশন প্রকাশিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সাড়ে ছয় লাখ মানুষ সই করে দিয়েছেন। প্রায় সাড়ে ছয় লক্ষ মানুষের সই করা এই পিটিশনের দাবি, কান্না থামাও ফ্রান্স।
একাত্তর/আরএ
