শুধু কর কমিয়ে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা যাবে না, বরং আমূল সংস্কার এনে হয়রানি কমাতে হবে। তাহলেই দেশের শিল্পায়নে প্রস্তাবিত বাজেটের সুফল পাবে বাংলাদেশ।
শনিবার (৫ জুন) দুপুরে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট পর্যালোচনার এমন দাবি করেছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সুযোগ চেয়েছেন উৎপাদনশীল খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হোক বা না হোক, আসছে জুলাই থেকে আড়াই শতাংশ কর কম দিতে হবে কোম্পানিগুলোকে। মোটামুটি ঢালাওভাবেই কমেছে দেশিয় শিল্পের কাঁচামালের আমদানি শুল্ক-ভ্যাট। নতুন নতুন খাতে এসেছে কর অবকাশের ঘোষণাও।
সামগ্রিকভাবে তাই প্রস্তাবিত বাজেটকে ব্যবসাবান্ধবই বলছে এফবিসিসিআই। কিন্তু ব্যক্তি বিনিয়োগের মন্দা কাটাতে, সহায়ক রাজস্ব ব্যবস্থাপনাও জরুরি।
রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই ভবনে প্রস্তাবিত বাজেট পর্যালোচনায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফেডারেশনের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “বিদ্যমান মন্দা পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক আর্থ-সামাজিক পরিবেশের তাৎক্ষণিক, স্বল্পমেয়াদী, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুল্ক ও কর কাঠামো সংস্কার করে একটি জন-বান্ধব এবং উৎপাদনশীল রাজস্ব ব্যবস্থা প্রবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি”।
এ সময় এনবিআরের পলিসি উইং এবং বাজেট বাস্তবায়ন উইংকে আলাদা করার অনুরোধ করেছেন এফবিসিসিআই সভাপতি।
বাজেট বক্তব্যে কালো টাকা নিয়ে কথা বলেননি অর্থমন্ত্রী। তারমানে টাকা সাদা করার সুযোগ শেষ হচ্ছে ৩০ জুন। অর্থনীতির স্বার্থে এই সুযোগ আবারও চান ব্যবসায়ীরা।
আরও পড়ুন: বাজেটকে স্বাগত জানালেও আরো সুবিধা চান পোশাক ব্যবসায়ীরা
জসিম উদ্দিন বলেন, “অপ্রদর্শিত অর্থ যদি থাকে একটা সময় বেঁধে উৎপাদনশীল খাতে, যেখানে কর্মসংস্থান হবে, যেখানে ইন্ডাস্ট্রি হতে পারে সেসব জায়গায় সরকার বিনিয়োগ করার একটা সুযোগ দিতে পারে। তবে এটা সারা জীবনের জন্য দেয়া উচিত হবে না”।
বিদেশি অনুদান পেলেও বাজেটে আয়-ব্যায়ের ফারাক থাকছে ২ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকার। যা মেটাতে বরাবরের মতোই সরকারের অন্যতম ভরসা ব্যাংক ঋণ। কিন্তু তাতে আপত্তি আছে দেশের শীর্ষ বণিক সংগঠনের।
সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআই সভাপতি আরো জানান, মহামারির দুর্দিনে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প। বছর পেরুলেও এই খাতে দেয়া প্রণোদনার ৩০ শতাংশের মতো টাকা এখনো হাতে পাননি উদ্যোক্তারা। তাই আরও একটি প্রণোদনা প্যাকেজ চান তারা।
একাত্তর/আরএ
