সম্প্রতি কক্সবাজারের রামুতে গরু চুরির ঘটনা বেড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের এক নং ওয়ার্ডের অফিসেরচর চরপাড়া এলাকায় দুটি গরু ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসময় ডাকাতদল মারপিট ও গুলি ছুড়ে দুটি গরু নিয়ে সটকে পড়ে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে ওই পরিবারের নিখোঁজ থাকা এক যুবককে মরদেহ পাশের সবজি ক্ষেত থেকে হাত-পা-মুখ-চোখ বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে। পরিবারের দাবি এবং ধারনা করা হচ্ছে, চুরির ঘটনা দেখে ফেলায় চোরেরা তাকে হত্যা করেছে।
নিহত যুবকের নাম মীর কাশেম (৩২)। তিনি ওই এলাকার মৃত নিয়ামত আলীর ছেলে এবং চুরি যাওয়ার গরুগুলোর গৃহস্থের ভাতিজা।
লুট হওয়ার গরুগুলোর মালিক মোহাম্মদ আলী জানান, রাত তিনটার দিকে সংঘবদ্ধ চোরের দল তার গোয়াল ঘরে থাকা সাতটি গরু নিয়ে যায়। মেয়ে গোয়ালঘর খালি দেখে বাড়ির অন্যদের জানায়। এসময় বাড়িতে থাকা জামাতা ফারুকসহ পরিবারের সদস্যরা ছুটোছুটি শুরু করে। এক পর্যায়ে প্রধান সড়কে গিয়ে দেখতে পায় ডাকাতদল সাতটি গরু গাড়ি তুলছে। এসময় সে লুট করা গরুগুলো ডাকাতদলের কবল থেকে কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে। তখন ডাকাতরা মারপিট এবং এক পর্যায়ে গুলি করে। কিন্তু তা লক্ষভ্রষ্ট হলে বেঁচে যায় ফারুক
তিনি আরও জানান, নিহত মীর কাশেম তার ভাতিজা। রাতে ঘটনার পর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না। সকালে স্থানীয়রা কাসেমের মৃতদেহ পাশের সবজি ক্ষেতে দেখতে পান।
তার দাবি, রাতে ডাকাতির সময় মীর কাশেম দেখে ফেলায় গরু চুরি করতে আসা চোরের তাকে হত্যা করেছে।
মোহাম্মদ আলীর জামাতা ফারুক জানান, গরুগুলো গাড়িতে তোলার সময় দুজন ডাকাত তাকে মারধর শুরু করে এবং বেঁধে রাখার চেষ্টা চালায়। এসময় তিনি একজন ধরে রাখলে আরও চার জন ডাকাত এসে তাকে মারধর করে এবং এক পর্যায়ে তার দিকে গুলি ছোড়ে। পরে বড় সাইজের দুটি গরু নিয়ে ডাকাতদল গাড়িযোগে সটকে পড়ে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জাফর আলম জানান, নিহত মীর কাশেম মানসিক ভারসাম্যহীন। সে হয়তো চুরির ঘটনা দেখেছিল। অপরিচিত লোক দেখলে চিৎকার করতো কাসেম। তাছাড়া গভীর রাতে হওয়ায় সে হয়তো চিৎকার দিতে চেয়েছিলো। এজন্য ডাকাতরা তাকে মারধর এবং হাত-পা-মুখ বেঁধে হত্যা করেছে।
এদিকে গৃহকর্তার ছেলে তারেক ও মেয়ে শামীমা আকতার জানিয়েছেন, চুরির সময় ৯৯৯ এ কল করে পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়। এর এক ঘণ্টা পর পুলিশ আসে।
তাদের অভিযোগ, পুলিশের এক কর্মকর্তা বাড়ির সদস্যদের ৯৯৯ এ কল করায় বকা দিয়েছেন। ওই কর্মকর্তা বলেছেন, চুরি হলে আমরা কি করবো, ‘ডাকাতি হলে আসতাম’। এরপর সকাল ১০টায় থানায় যোগাযোগ করতে বলেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রামু থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ারুল হোসাইন জানান, গরু ডাকাতি হয়েছে রাতে, আর মৃতদেহ পাওয়া গেছে সকালে। বিষয়গুলো মাথায় রেখে পুলিশ তদন্ত করছে।
আরও পড়ুন: মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত হলো টেকনাফের তিন কৃষক
রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) অরূপ কুমার চৌধুরী সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানিয়েছেন, পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি রামুতে গরু চুরির ঘটনা বেড়েছে। পাঁচ দিন আগেও রাজারকুল ইউনিয়নের সিকদারপাড়া এলাকার নুরুল হকের বাড়িতেও ডাকাতদল হানা দিয়ে চারটি গরু লুট করেছে।
এদিকে একের পর এক চুরির ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
একাত্তর/এসি
