জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে বিশ্বজুড়ে অতিদরিদ্র হতে পারে ১৪ কোটি মানুষ। সম্প্রতি প্রকাশিত নেচার এনার্জি জার্নালের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।
সংস্থাটির মতে, জ্বালানির দামবৃদ্ধির কারণে যে উচ্চমূল্যস্ফীতির সৃষ্টি হয়েছে তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিম্ন ও সীমিত আয়ের পরিবার।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু পর থেকেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। আর এর ফলে দেখা দিয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি। বেড়েছে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়।
এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে ১৪ কোটি মানুষ অতি দরিদ্র হতে পারে বলছে, নেচার এনার্জি জার্নালের এক প্রতিবেদন।
সংস্থাটির মতে, জ্বালানি খরচ বাড়ায় নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে গরিব পরিবারগুলোতে এরই মধ্যে খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, উচ্চ আয়ের দেশগুলোর পরিবারেও এর প্রভাব পড়ছে।
বৈশ্বিক পরিসরে পারিবারিক জ্বালানির ব্যয় ৬২ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১২ দশমিক ৯ শতাংশে। এছাড়া পারিবারিক ব্যয় গড়ে বেড়েছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত।
১১৬ দেশে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেছেন নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা। তাদের মতে, যুদ্ধের পর সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কয়লা ও গ্যাসের দাম।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানির দাম বাড়ায় অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামও বেড়েছে ব্যাপক হারে। এক বছর আগের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে ডিমের দাম বেড়েছে ৭০ দশমিক এক শতাংশ।
মাখন ২৬ দশমিক ৩, ময়দা ২০ দশমিক ৪, চিনির দাম বেড়েছে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। শুধু আমেরিকারই নয় গোটা ইউরোপ-এশিয়াতে পণ্যের দাম বেড়ে গেছে বহু গুণে।
বিশ্বের খাদ্য উৎপাদকেরা বলেছেন, চলতি বছর খাদ্যের দাম কমার সম্ভাবনা তো নেইই, বরং আরও বেড়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তবে এর সুবিধা পেতে আরও অনেক সময় লাগবে।
একাত্তর/এআর
