নীলফামারীতে মুখোমুখি মঞ্চ তৈরি করে একই সময় আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ ও বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় দলের অভিযোগ একে অপরের বিরুদ্ধে।
শনিবার শনিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের পৌর সুপার মার্কেটের উত্তর অংশে এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শহরের পৌর সুপার মার্কেটের উত্তর অংশে শান্তি সমাবেশ শুরু করে জেলা আওয়ামী লীগ। একই সময়ে ৫০ গজ দুরে ওই মার্কেটের দক্ষিণ অংশে তৈরি করা মঞ্চে পদযাত্রার জন্য সমবেত হয় জেলা বিএনপি একাংশের নেতৃবৃন্দ। তাতে নেতৃত্ব দেন জেলা বিএনপির সভাপতি আ.খ.ম আলমগীর সরকার।
এসময় উভয় মঞ্চ থেকে পাল্টা পাল্টি শ্লোগান দেয়ায় উত্তেজনা সৃষ্টির হয়। এক পর্যায়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মনিরুল হাসান আপেল ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদ সরকারের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিএনপির মঞ্চের দিকে এগিয়ে গিয়ে সেখানে টাঙ্গানো ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে মঞ্চ ও চেয়ার ভাঙচুর করে। এতে করে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল হক অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার রাতে পৌর সুপার মার্কেটের সামনে শান্তি সমাবেশের জন্য মঞ্চ তৈরি করি। এরপর ওই রাতে আমাদের সভা মঞ্চের অদূরে মঞ্চ তৈরি করে বিএনপি। তারা মঞ্চ তৈরি করার পর আমরা জানতে পারি যে তাদের পথযাত্রা কর্মসূচি রয়েছে। পরে বিএনপির নেতৃবৃন্দরা জানায়, আমাদের (আ.লীগ) কর্মসূচি শেষ হলে তারা (বিএনপি) তাদের কর্মসূচি শুরু করবেন। কিন্তু শনিবার সকালে আমাদের সভা শুরু হলে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে অশ্লীল কথাবার্তা ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিতে থাকেন। তখন আমাদের কয়েকজন ছেলে সেখানে গিয়ে তাদের নিষেধ করেছে মাত্র, আর কিছুই করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ‘পথযাত্রা তো তারা রাস্তা গিয়ে করবে। তা না করে তারা আমাদের মঞ্চের মুখোমুখি মঞ্চ তৈরি করে অশ্লীল বক্তব্য ও শ্লোগান দিচ্ছিল। আমাদের আওয়ামী লীগের আদর্শের নেতাকর্মীরা সত্যিকারের মানুষ তারা এটাকে কেউ পছন্দ করেনি এবং মেনে নিতে পারেনি। তাই বিএনপির নেতাকর্মীদের বারণ করতে যাওয়ায় তারাই আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হয়। বিএনপি কোন মঞ্চ ভাংচুর করা হয়নি, ব্যানারও ছেঁড়া হয়নি। তাদের ব্যানার ও মঞ্চ অখ্যাত রয়েছে।’
অপরদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি আ.খ.ম আলমগীর সরকার এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘দলের যত কর্মসূচি থাকে আমার তা পৌরমার্কেটস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনেই পালন করে থাকি। একই ভাকে শনিবার কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পথযাত্রা কর্মসূচি পালন করতে আমরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে মঞ্চ তৈরি করি। একই সময়ে আমাদের দলীয় কার্যালয়ের অদূরে আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশের ডাক দিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করে। আমরা বলেছি তারা কর্মসূচি শেষ করলে আমরা আমাদের কর্মসূচি শুরু করবো। আমাদের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থান থেকে পথযাত্রা নিয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমবেত হচ্ছিলেন। এ অবস্থায় বিনা উস্কানিতে আওয়ামী লীগের নির্দেশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের সভাস্থলে হামলা চালিয়ে ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে এবং চেয়ার-টেবিলসহ মঞ্চ ভাঙচুর করে। এতে আমাদের অর্ধশত নেতা-কর্মী আহত হন। পুলিশ প্রশাসন উপস্থিততে আমাদের উপর হামলা চালিয়ে মঞ্চ ভাংচুর, ব্যানার ছেড়া হলেও পুলিশ তাদের বাধা না দিয়ে আমাদের উপর চড়াও হয়েছে।’
নীলফামারী সদর থানার পরিদর্শক আব্দুর রউপ বলেন, ‘পাশাপাশি দূরত্বে দুই দলের কর্মসূচি ঘোষণার কারণে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে বিএনপি জানায় আওয়ামী লীগের কর্মসূচি শেষে তারা তাদের কর্মসূচি পালন করবেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের কর্মসূচি শুরু হলে বিএনপির সভাস্থল থেকে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।’
পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর বেলা ১২টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগ পুনরায় তাদের সভা স্থলে সমাবেশ শুরু করে। অপরদিকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাদের সভাস্থলে অবস্থান নেয়।
দুপুর একটার দিকে সভা শেষ করে মিছিল নিয়ে শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে দলীয় কার্যালয়ে যায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে চার দশমিক ১০ মাত্রার ভূমিকম্প
আওয়ামী লীগের সমাবেশ শেষে বিএনপির নেতাকর্মীরা সেখান সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বড়বাজার ট্রাফিক মোড়ে গিয়ে শেষ করে।
অপরদিকে বেলা ১১টার দিকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল আলমের নেতৃত্বে শহরের বড় বাজারে পৃথক পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। তারা শহরের গাছবাড়ি থেকে পদযাত্রা নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে আসার পথে পুলিশের বাধায় বড় বাজার ট্রাফিক মোড়ে সমাবেশ করে।
একাত্তর/এসজে
