ইউনাইটেড স্টেট অব কৈলাসা। এই নামে পৃথিবীতে কোন দেশ আছে কি-না, জানতে চাইলে বেশিরভাগ মানুষের চোখ কপালে উঠতে পারে। যদিও বা কেউ শুনে থাকেন, তিনি বলতে পারবেন না দেশটির অবস্থান কোথায়। সেই কৈলাসাই এখন শিরোনাম।
খবরে না এসেও উপায় নেই। যে দেশের কোন ভৌগলিক অস্তিত্ব নেই, সেই দেশের প্রতিনিধি যখন জাতিসংঘ সভায় হাজির তখন শিরোনাম না হয়ে উপায় নেই। শুধু কি তাই, আজানা দেশটির স্বঘোষিত ধর্মগুরু নিত্যানন্দ ভারতে একাধিক অপরাধের অভিযোগে পলাতক।
নিজেকে ভগবান দাবি করা নিত্যানন্দর ঘোষিত ‘কৈলাসা’র প্রতিনিধি জাতিসংঘ সভায় শুধু কথা বলেই ক্ষান্ত হননি, আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে রীতিমতো ভারতের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন তিনি। সেই আলোচনার ভিডিও আপলোডও হয়েছে রাষ্ট্রসংঘের ওয়েবসাইটে।
জাতিসংঘের সভায় কৈলাসার প্রতিনিধি হিসাবে যোগ দেয়া নারীটি নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন বিজয়প্রিয়া নিত্যানন্দ বলে। তিনিই নাকি দেশটির আন্তর্জাতিক দূত। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার বিষয়ক এই সভায় গলা চড়িয়ে বক্তব্য রাখেন বিজয়প্রিয়া।
সভায় তিনি বলেন, কৈলাসা হল হিন্দুদের জন্য প্রথম সার্বভৌম দেশ। হিন্দু ধর্মের সর্বোচ্চ পুরোহিত নিত্যানন্দ পরমাসিভম দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। সেই সঙ্গে তিনি আরো দাবি করেন, ভারতে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন কৈলাসার প্রতিষ্ঠাতা নিত্যানন্দ।
বিজয়প্রিয়া দাবি করেছেন, নিত্যানন্দ প্রাচীন হিন্দু সভ্যতা ও তাদের ১০ হাজার ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করছেন। এই কাজ করতে গিয়ে তার মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত হয়েছেন নিত্যানন্দ। হিন্দু ধর্মের প্রাচীন রীতিনীতি পালন করায় নির্যাতিত হয়েছেন নিত্যানন্দ। মাতৃভূমিতে তার ধর্মপ্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
বিজয়প্রিয়ার কথা বলার পর কৈলাসার পুরুষ প্রতিনিধি নিজেকে ই এন কুমার নামে পরিচয় দেন। নিজেকে ক্ষুদ্র কৃষক বলে পরিচয় দেয়া এই ব্যক্তি দাবি করেন, কৈলাসা ইকুয়েডরের উপকূলে অবস্থিত একটি দেশ, যার নিজস্ব পতাকা, পাসপোর্ট এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্ক রয়েছে।
তিনি জানান, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে নিত্যানন্দ দেশে ফ্লাইট চলাচলের ঘোষণা দেন। কৈলাসের ওয়েবসাইটে একে পৃথিবীর ‘সবচেয়ে বড় হিন্দু জাতি’ হিসেবে বর্ণনা করেন। কৈলাসা সীমানা ছাড়া একটি দেশ এবং বিতাড়িত হিন্দুদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত, যারা নিজ দেশে নিগৃত হয়েছে।
নিত্যানন্দের বিরুদ্ধে ভারতে সংঘটিত বহু অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিশু ধর্ষণ, শোষণ ও অপহরণ। তিনি ২০১৯ সালে ভারত থেকে পালিয়ে যান। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে একটি ব্লু কর্নার নোটিশ জারি করে।
অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির পরিচয়, অবস্থান এবং কার্যকলাপ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য সদস্য দেশগুলোতে ওই নোটিশ জারি করা হয়। গত বছরের আগস্টে বেঙ্গালুরুর কাছে রামনগরের একটি স্থানীয় আদালত ২০১০ সালের একটি ধর্ষণ মামলায় নিত্যানন্দের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও জারি করে।
আরও পড়ুন: নেপালের ক্ষমতাসীন জোটে ভাঙন, সরে দাঁড়াল শরিকরা
এমন এক পলাতক অপরাধী নিত্যানন্দের কাল্পনিক দেশ কৈলাসা থেকে কি করে এক প্রতিনিধি জাতিসংঘের সভায় যোগ দিলো, তা নিয়ে হাজার প্রশ্নের সঙ্গে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন উঠছে যে দেশের স্বীকৃতিই নেই সে দেশের প্রতিনিধি কীভাবে রাষ্ট্রসংঘের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়? দেশটির প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল কি না, তাও খোলসা করেনি জাতিসংঘ।
একাত্তর/আরএ
