বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর পর 'গার্ড অব অনার' দেওয়ার ক্ষেত্রে নারী কর্মকর্তাদের বিকল্প ব্যক্তি নির্ধারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।
বর্তমানে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা মারা যাওয়ার পর তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানায় সংশ্লিষ্ট জেলা/উপজেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেখানে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন। মুক্তিযোদ্ধার কফিনে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী কর্মকর্তা।
দেশের অনেক উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন নারী কর্মকর্তারা। সেসব উপজেলায় নারী ইউএনও'র বিকল্প ব্যক্তি নির্ধারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে এই সংসদীয় কমিটি।
রোববার (১৩ জুন) সংসদীয় কমিটির এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা ওঠার পর সরকারের কাছে সুপারিশ রাখা হয়েছে গার্ড অব অনার প্রদানের ক্ষেত্রে নারী ইউএনওদের বিকল্প খুঁজে বের করতে।
সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গার্ড অব অনার প্রদানের আয়োজন দিনের বেলায় করা এবং মহিলা ইউএনওর বিকল্প ব্যক্তি নির্ধারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে সরকারের কাছে।
এমন সুপারিশের কারণ জানতে চাইলে সংসদীয় কমিটির সভাপতি শাহজাহান খান বলেন, 'মহিলা ইউএনও গার্ড অব অনার দিতে গেলে স্থানীয় পর্যায়ে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। মহিলারা জানাজায় থাকতে পারেন না তবুও মহিলা গার্ড অব অনার কেনো দেন, এরকম সমালোচনা এড়াতে এই সুপারিশ বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: ঢাকায় পৌঁছেছে চীনের উপহারের ছয় লাখ টিকা
শাহজাহান খান আরও বলেন, বৈঠকে প্রস্তাব এসেছে, মহিলার বিকল্প একজন পুরুষকে দিয়ে গার্ড অব অনার দেওয়ার বিষয়ে। সংসদীয় কমিটি মন্ত্রণালয়কে এটা পরীক্ষা করে দেখতে বলেছে।
শাহজাহান খানের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির এই বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম, রাজিউদ্দিন আহমেদ, কাজী ফিরোজ রশীদসহ আরও সদস্য অংশ নেন।
একাত্তর/জো
