ভাঙ্গা থেকে পদ্মা সেতু পার হয়ে মাওয়া পৌঁছালো ট্রেন

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৩, ১০:৪৯ পিএম

আরও একটি স্বপ্ন পূরণ। বহুমুখী পদ্মা সেতু পাড়ি দিলো রেল। এই প্রথম মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও মুন্সীগঞ্জের মানুষ দেখলো ট্রেন চলাচল। সেপ্টেম্বর থেকেই পদ্মা সেতুর উপর দিয়ে ভাঙ্গা থেকে মাওয়া পর্যন্ত রেল চলবে বলে জানালেন রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।

তিনি জানান, আগামী সেপ্টেম্বরে ভাঙ্গা থেকে ঢাকা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করবে। ভাড়া ঠিক হবে অন্যান্য রুটের সাথে সমন্বয় করেই। পদ্মার উপর দিয়ে সাতটি বগির রেলের পরীক্ষমূলক এই যাত্রায়য় উচ্ছ্বসিত ছিলেন প্রমত্ত পদ্মা নদীর দুই পাড়ের মানুষ। 

image

ট্রেনে চড়ে পদ্মা পাড়ি। একটা সময় তা ভাবনারও অতীত ছিলো। কিন্তু, স্বপ্নের পদ্মা সেতু সেই অসম্ভবকেও সম্ভব করেছে। সড়কপথ চালুর পর পদ্মাসেতুর অপুর্ণতা ছিল। নয় মাসের মাথায় সেই অপুর্ণতা পরিপুর্ণ রূপ পেল মঙ্গলবার যখন প্রথমবারের মতো পদ্মা সেতুর ট্র্যাকে উঠলো পরীক্ষামূলক ট্রেন। সেই স্বপ্নযাত্রার শুরুটা হয় ফরিদপুরের ভাঙা পুরাতন রেল স্টেশন থেকে। 

ফরিদপুরের ভাঙা স্টেশন থেকে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে এই প্রথম পাথরবিহীন রেলপথ পদ্মা সেতু পার হয়ে মাওয়া প্রান্তের স্টেশনে এসে থামে পরীক্ষামূলক চলাচল ট্রেনটি। মঙ্গলবার দুপুর ১টা ২১ মিনিটে সাত বগির বিশেষ ট্রেন ভাঙ্গা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে মাওয়ার দিকে রওনা দেয়।

image

২টা ৩৫ মিনিটে ট্রেনটি পদ্মা সেতুর সংযোগ রেলপথে ওঠে। প্রায় ২০ মিনিটের মতো সময় লাগে মূল পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে। ৪২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ৩টা ১৮ মিনিটে মাওয়া স্টেশনে থামে ট্রেনটি। চালকের আসনে ছিলেন রেলওয়ের লোকোমোটিভ মাস্টার রবিউল আলম।

এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ বাংলার যোগাযোগের নতুন অধ্যায় রচিত হলো। গৌরবের অংশীদার হতে পেরে উচ্ছ্বসিত রেলকর্মীরা। পদ্মা পাড়ের মানুষের চোখে-মুখে বিস্তীর্ণ হাসি। তারা বলছেন, এ এক এমন স্বপ্নপূরণ, যা তারা কখনও কল্পনাও করতে পারেননি।

image

এর আগে দুপুর ১টা ৫মিনিটে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন উৎসবমুখর পরিবেশে ফরিদপুরের ভাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনে এই পরীক্ষামূলক ট্রেনযাত্রার উদ্বোধন করেন। এ সময় রেলমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার স্বপ্ন একটা একটা করে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, তারই অংশ হিসেবে আজ এই ট্রায়াল ট্রেন চলছে। সেপ্টেম্বরে ভাঙ্গা-ঢাকা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করবে এবং তার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা এই ট্রেনকে যশোর পর্যন্ত নিয়ে যাব। তবে তার জন্য ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদ আহমেদ বলেন, প্রকল্পের কাজ শুরু করতে আমাদের তিন মাস দেরি হয়েছিল। তারপরেও সময়মতো কাজ শেষ করতে পারায় আমরা আনন্দিত। এরই মধ্যে আমাদের এই অংশের কাজের ৯২ ভাগ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ প্রকল্প মেয়াদের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।

উদ্বোধনের পর আমেরিকার তৈরি ইঞ্জিন আর চীনের তৈরি সাত বগির বিশেষ ট্রেনে করে মাওয়া প্রান্তে যাত্রা শুরু হয়। ট্রেনে রেলমন্ত্রী এবং আমন্ত্রিত অতিথিসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষার্থী, যুব সমাজের প্রতিনিধিরা যাত্রী ছিলেন। এই ট্রেনটির সামনে ছিল ‘গ্যাং কার’। সেখানে অস্থায়ী চেয়ারে সংবাদকর্মীদের বসার ব্যবস্থা ছিলো।

image


দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে ট্রেনটি জাজিরায় পদ্মা স্টেশন দিয়ে যাওয়ার সময় কর্মীরা বাংলাদেশ ও চীনের পতাকা হাতে ট্রেনটিকে স্বাগত জানায়। দুপুর ২টা ৪৮ মিনিটে ট্রেনটি খুব ধীর গতিতে পদ্মা সেতুর নিচের ডেকে প্রবেশ করে। এসময় ট্রেনের ভেতরে দেশাত্মবোধক গান চলছিল।

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে এই প্রথম পাথরবিহীন রেলপথ। এতোক্ষণ ঝমঝম শব্দে ট্রেনটি চললেও সেতুর ওপর রেলপথে সেই শব্দ বিলীন হয়ে যায়। কেবল চাকার সঙ্গে লাইনের ঘর্ষণের একটা শো শো শব্দ আসছিলো। আর ক্যামারাপার্সনরা ব্যস্ত ছিলো ছবি ধারণ করতে। 

এদিকে, ভাঙ্গা স্টেশন থেকে সেতু পর্যন্ত রাস্তার দু’পাড়ে ছিলো উৎসুক সাধারণ মানুষের ভিড়[। ছিলো ট্রেন লাইনে পাশে থাকা স্কুলের শিক্ষার্থীরা। তারাও হাত নেড়ে অভিবাদন জানায়। এছাড়া এই ট্রেনে লাইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরাও হাত নেড়ে ট্রেনের যাত্রীদের শুভেচ্ছা জানান।

ভাঙ্গা স্টেশন হতে মাওয়া স্টেশন পর্যন্ত দূরত্ব ৪২ কিলোমিটার। প্রথম দিনে ট্রায়াল যাত্রায় দুই ঘণ্টায় এই পথ অতিক্রম করে ট্রেনটি। তবে শুধু মূল সেতু পারি দিতে সময় লাগে প্রায় ২০ মিনিট। প্রথম দিনে ট্রেনের সব্বোর্চ গতি ছিল ৩০ কি.মি। তবে গড় গতি ছিলো ২০ কি.মি।

ভাঙ্গা হতে মাওয়া পর্যন্ত চারটি স্টেশন ও একটি জংশন স্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে। সেগুলো হচ্ছে-ভাঙ্গা স্টেশন, ভাঙ্গা জংশন স্টেশন, শিবচর স্টেশন, পদ্মা স্টেশন ও মাওয়া স্টেশন।

image

 স্টেশনগুলো এখনো নির্মাণাধীন থাকলেও পরীক্ষামূলক এই যাত্রায় শ্রমিক ও কর্মকর্তারা পতাকা উড়িয়ে ট্রেন যাত্রীদের স্বাগত জানান। পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের ৪২ নম্বর ও মাওয়া প্রান্তের ১ নম্বর পিয়ারে আতশবাজি ফাটিয়ে ট্রেনকে স্বাগত জানানো হয়।

প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাল ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন ২০২৪ পর্যন্ত। দুই তলা পদ্মা সেতুর উপরতলার সড়কপথ গত বছরের ২৫ জুন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে ২০ অগাস্ট সেতুর নিচতলায় রেললাইন স্থাপনের কাজ শুরু হয়। সাত মাসের মাথায় গত ৩১ মার্চ সেতুর ওপর রেললাইন তৈরির কাজ শেষ হয়।

মাওয়া প্রান্তে এক ব্রিফিংয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, নতুন রেল পথের জন্য চীন থেকে ১০০ কোচ আনা হচ্ছে। ৪৫টি পৌঁছে গেছে, বাকি ৫৫টি শিগগিরই আসবে। গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত এ প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতি ৭৪ শতাংশ। 

ঢাকা-মাওয়া অংশের কাজের অগ্রগতি প্রায় ৭২ শতাংশ এবং মাওয়া-ভাঙ্গা অংশের অগ্রগতি প্রায় ৯১ শতাংশ। ভাঙ্গা-যশোর প্রকল্পের কাজ এগিয়েছে প্রায় ৬৮ শতাংশ। প্রকল্পের খরচ বাড়ছে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামী জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে এটা বলা যাবে।

১৭২ কিলোমিটারের নতুন এই রেলপথ চালু হলে, রাজধানী ঢাকার সাথে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ সহজ হবে। কমবে রেলপথের দূরত্ব। সহজ হবে পণ্য পরিবহন। সাথে আরও একধাপ বিস্তৃত হবে দেশের রেল নেটওয়ার্ক। 


একাত্তর/এআর

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা-কক্সবাজার ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলবে চার জোড়া ‘পূজা স্পেশাল’ ট্রেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ১৯ জুলাইয়ের সমাবেশ উপলক্ষ্যে দলটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চার জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণে বাংলাদেশ সরকারের সাথে ঋণচুক্তি সই করেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। 
টিকিট পেতে সমস্যা না হলেও অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে ভোগান্তিতে পড়েছেন ট্রেনের যাত্রীরা। চিরাচরিতভাবেই ট্রেনের বগি ছাড়িয়ে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করতে দেখা গেছে ঢাকায় ফেরত যাত্রীদের।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং মুক্তকণ্ঠে কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই বিএনপির জন্ম হয়েছে এবং দলের...
২০২৭ সালের হজযাত্রীদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
সম্প্রতি শেষ হওয়া আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টকে ঘিরে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শাওমি বাংলাদেশে তাদের স্মার্ট টিভি সিরিজের বিক্রিতে ও ক্রেতাদের আগ্রহে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে।
মন্ত্রিসভার কোনো সদস্য বা উপদেষ্টার কার্যক্রমে সন্তুষ্ট না হলে প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় তার দায়িত্ব পুনর্বণ্টন কিংবা নতুন কাউকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর