দেশের মোট ৫৬টি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ। আপাতত বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকায় আরও কয়েকদিন এই পরিস্থিতি বিরাজ করবে বলে সতর্ক করে দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
টানা ১৩ দিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। বৃহস্পতিবারও এখানে বেলা ৩টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এখন পর্যন্ত এই মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড।
তীব্র তাপদাহে চুয়াডাঙ্গার জনজীবনসহ প্রাণীকুল অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড গরমে পুড়ছে ফসলের মাঠ। শুকিয়ে যাচ্ছে পুকুর, জলাশয় ও খাল-বিলের পানি। সব মিলিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা এখন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে।
এদিকে জ্বর, ঠাণ্ডা, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। আবহাওয়া অফিস বলছে, তাপমাত্রা আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা ১ম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, ভৌগোলিক কারণে চুয়াডাঙ্গায় শীতের সময় তীব্র শীত ও গরমের সময় তীব্র গরম পড়ে। এ জেলায় দীর্ঘদিন যাবৎ বৃষ্টিপাত না হওয়ার ফলে আশেপাশের জেলাগুলোতে মাঝারি ও তীব্র তাপদাহ বয়ে যাচ্ছে এবং এ অঞ্চলে ক্রমেই উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের থার্মোমিটারের পারদ উঠতে উঠতে ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। এতে নাকাল হয়ে পড়েছে নগরজীবন।
বেলা বাড়ার সাথে সাথে রাজশাহীতে বাড়তে থাকে গনগনে রোদের তাপ। এই তাপদাহে কম আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন।

তবে স্বস্তির খবর দিতে পারেনি আবহাওয়া অফিস। তারা জানায়, রাজশাহীর উপর দিয়ে এই তাপ বইবে আরও কয়েকদিন।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন বলেন, তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমে গেছে বাতাসের আর্দ্রতাও। আর বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়ার কারণে শরীরে পানি স্বল্পতা দেখা দিচ্ছে। আগামী কয়েকদিনে রাজশাহীর তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এই আবহাওয়া কর্মকর্তা।
বাগেরহাটের ফকিরহাটেও দুর্বিষহ গরমে হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিন ৬ থেকে ১০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে।
ফকিরহাটে প্রচণ্ড গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। প্রতিদিনই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাড়ছে বিভিন্ন বয়সী রোগীর সংখ্যা।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, প্রতি বছর এই সময় ডায়রিয়ার প্রকোপ তুলনামূলক বেড়ে যায়। এ সময়ে পচা-বাসি খাবার না খাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এএসএম মফিদুল ইসলাম বলেন, প্রচণ্ড তাপদাহে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে। পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। ডায়রিয়ার প্রকোপ মোকাবেলায় যথেষ্ট পরিমাণ স্যালাইন ও ওষুধ মজুদ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ডায়রিয়ায় হাত থেকে রক্ষা পেতে সচেতনতা ছাড়া বিকল্প নেই। এসময় পচা-বাসি খাবার খাওয়া যাবেনা। ঘন ঘন বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। এছাড়া প্রখর রোদে বের না হওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।
তীব্র তাপদাহে পুড়ছে মোংলাও। প্রতিদিন তাপমাত্রা গড়ে ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে এখানে।
মানুষের পাশাপাশি এর প্রভাব পড়েছে প্রাণীকুলের উপরও। অতিরিক্ত গরমে চিংড়ি ঘেরের পানি শুকিয়ে এবং লবণাক্ততা বেড়ে চিংড়ি চাষে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন: মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায়
এদিকে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায়, দিনাজপুরের হিলিতে বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। টানা কয়েকদিনের গরমে ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শিশু, বৃদ্ধসহ নানা বয়সের মানুষ।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারাদেশে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। তাপমাত্রা কোথাও কোথাও ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পার হয়ে তাপপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। আপাতত বৃষ্টির সম্ভাবনাও নেই। এই আবহাওয়ায় শিশুদের বিশেষ যত্নের পাশাপাশি সবাইকে বেশি করে তরল খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
একাত্তর/এসজে
