জিয়া আর খালেদা মানুষ মেরেছে, আর তাদের পুত্র বিদেশে বসে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একের পর এক মার্কেটে আগুন তেমন কিছু কিনা সেই প্রশ্নও রাখছেন তিনি। যদি তেমন হয়ে থাকে তাহলে বিচারের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে বিএনপি-জামায়াতের আগুন সন্ত্রাসে নিহত ব্যক্তিদের পরিবার এবং আহতদের পাশাপাশি, ১৯৭৭ সালে গণ-ফাঁসিতে হত্যার শিকার বিমান বাহিনীর সদস্যদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
গণভবনে বিচারের বিলাপে নিজ আসন ছেড়ে উঠে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সময় দেন-সময় নেন আহাজারি সামলাতে। কথা দেন নিজের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে এসব ঘটনার উপযুক্ত বিচার করে ছাড়বেন তিনি। থাকবেন ভুক্তভোগীদের পাশে।
সবহারা স্বজনরাও বলেন, তারা এখন শেষ আশ্রয়ের ঠিকানায়। শুনেন সবার কথা। নিজের বক্তব্য সারেন অল্প কথায়। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান আমলে ১৯৭৭ সালের বিমান বাহিনীর হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া বা ২০১৩-১৪ সালের আগুন সন্ত্রাস প্রসঙ্গে বলেন, নিজে ৩৫ বছর বাবা মা ভাইদের হত্যার বিচার চাওয়া একজন শেখ হাসিনা বুঝেন ভুক্তভোগীদের ভাষা।
আগুন সন্ত্রাস ও জিয়ার আমলে নিহতদের স্বজনদের সান্ত্বনা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমিও আপনাদের মতো একজন। আমিও একদিন শুনলাম আমার কেউ নেই। আমরা দুই বোন বিদেশে ছিলাম, এতিম হয়ে গেলাম। কী বর্বরভাবে আমার বাবা-মা, ভাই সবাইকে হারালাম।
সরকার প্রধান বলেন, ১৯৭৭ সালে বিমান ও সেনা কর্মকর্তাদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমি আমার গ্রামেও একজনকে খুঁজে পেয়েছিলাম, তার ছেলে মেয়েদের আমি দেখতাম। এরপর আমি অনেক চেষ্টা করেছিলাম এসব নামধাম জোগাড় করতে। শুরুতে পাওয়া কষ্টকর ছিলো। পরে নামগুলো পাই।
শেখ হাসিনা বলেন, কী বর্বরবতা ১৯৭৫ সালের পর। প্রথম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, আমার ভাই, আত্মীয় স্বজনকে মারলো, এরপর জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করল। এরপর থেকে বার বার সেনাবাহিনীতে- মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের হত্যা করল। শুধু তাই নয়, আমাদের আওয়ামী লীগের অগণিত নেতাকর্মীকে হত্যা করল। যখন আমি অপজিশনে ছিলাম এমন দিন নেই, যে দিন লাশ টানতে হয়নি। আমাদের এত নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে, সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে, তারপরও কী করে এদের পাশে লোক থাকে?
বিগত সময়ে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অগ্নিসন্ত্রাস- জীবন্ত মানুষকে কীভাবে পোড়ানো যায়। সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার। এখন দেখুন কয়েকদিন ধরে মার্কেটে আগুন। হঠাৎ করে কয়েকদিন ধরে আগুন, তারপর আমার মনে সন্দেহ হলো এটিও নাশকতা কি না। ঈদে মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য করবে, সেই পথটাই বন্ধ করে দিতে চায়।
শেখ হাসিনা বলেন, অন্যায় যারা করেছে, তারা কিন্তু শাস্তি পাবে। শাস্তি পেয়েছে, পাচ্ছে, পাবে। আরও যারা বাকি আছে সেটা (বিচার) আমরা অবশ্যই করব। এরা যে অপরাধ করেছে তার বিচার হবে। দিনের পর দিন ফাঁসির ঘটনা, আমরা বিদেশে থেকেও এই খবরগুলো শুনতাম। কোন অপরাধ নেই, ধরে নিয়ে গিয়ে ফাঁসি দেয়া। জিয়াউর রহমান তো হাসতে হাসতে মানুষের ফাঁসির রায় লিখত। কোনো বিচার ছিল না।
দেশের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমার একটাই চেষ্টা এদেশের মানুষ যেন একটু ভালো থাকে। আজকে যখন মানুষ ভালো অবস্থানের দিকে যাচ্ছে, অর্থনৈতিক ভাবে সচ্ছল হচ্ছে, সেই সময় আবার অগ্নিসন্ত্রাস, মার্কেটে আগুন, নানাভাবে মানুষের ক্ষতি করা। এটি যারা করে, এদের প্রতি জাতির ঘৃণা। আল্লাহ সহ্য করবে না।
খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানের সমালোচনা করে বলেন, এরা দেশের মঙ্গল চায় না, দেশের ভালো চায় না। বাবা মায়ের হত্যার পর দেশের মানুষকে আপন করে নেয়া প্রধানমন্ত্রী এ সময় অগ্নিসন্ত্রাস আর হত্যাকাণ্ডের শোক বয়ে চলা মানুষগুলোর হাতে তুলে দেন ঈদ উপহার।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। অনুষ্ঠানে জিয়ার আমলে সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ড এবং বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের সময় ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে আলাদা দুটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
একাত্তর/আরএ/এআর
