কিশোরগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে নিজের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশু সন্তানকে বিষাক্ত ট্যাবলেট খাইয়ে ও গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যার দায়ে মা আছমা আক্তারকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার দুপুরে কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ আসামীর উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের পূর্বচরপাড়া গ্রামের সুরুজ মিয়ার কন্যা আছমা আক্তার ঘটনার এক যুগ আগে নাটোর জেলার আশরাফ উদ্দিন নামে এক যুবকের সাথে প্রেমের সম্পর্ক করে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন।
বিয়ের সাত বছরের মাথায় আছমা আক্তারের স্বামী আশরাফ উদ্দিন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। তাদের দাম্পত্য জীবনে শিউলী আক্তার মায়া নামে এক কন্যা জন্ম নেয়।
শিউলী আক্তার মায়া স্থানীয় কিন্ডারগার্ডেনের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
তিন বছর আগে আছমা আক্তার গাজীপুরের কাদের নামে এক যুবককে পুনরায় বিয়ে করেন। বিয়ের পর আছমা আক্তার কন্যা সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতেই থাকতেন।
পারিবারিক কলহের জেরে ২০২০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সকালে আছমা আক্তার তার শিশু কন্যা শিউলী আক্তার মায়াকে জোরপূর্বক একটি বিষাক্ত ট্যাবলেট খাওয়ায়। আরেকটি ট্যাবলেট খাওয়ানোর চেষ্টাকালে আছমা আক্তারের মা মনোয়ারা বেগম বাঁধা দেন।
এসময় মনোয়ারা বেগমকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে নিজের সন্তান শিউলী আক্তার মায়াকে মোবাইলের হেড ফোনের তার দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন আছমা আক্তার। তখন শিশুটি বমি করে মাটিতে ঢলে পড়ে।
পরিবারের সদস্যারা মায়াকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের নানা সুরুজ মিয়া বাদি হয়ে আছমা আক্তারের নামে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ২০২০ সালের ৩১ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
আদালতের বিচারক মামলার সাক্ষী প্রমাণ ও শুনানি শেষে রায় প্রদান করেন।
আরও পড়ুন: টেকনাফে পাহাড় থেকে দুইজনকে অপহরণ
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট এ এ আফজল।
আসামি পক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম পলাশ।
একাত্তর/আরএ
