মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজীপুর গ্রামের মাংস বিক্রেতা সুমন হত্যা মামলায় অভিযুক্তকে আট বছর কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে মেহেরপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রিপতি কুমার বিশ্বাস এই রায় প্রদান করেন।
দণ্ডিত আব্দুল আওয়াল গাংনী উপজেলার কাজীপুর গ্রামের খন্দকারপাড়ার আবুল কাসেম ওরফে খুশি মণ্ডলের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৫ জুন বেলা আড়াইটার দিকে নিহত সুমন বাইসাইকেল যোগে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় আব্দুল আওয়াল তাকে দাঁড়াতে বলেন। দাঁড়ানোর সাথে সাথে তাকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় ও ঘাড়ে দুইটি আঘাত করেন আওয়াল। এতে গুরুতর আহত হন সুমন। স্থানীয়রা আহত সুমনকে উদ্ধার করে প্রথমে বামন্দীর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেন। সেখান থেকে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় তাকে। কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিক্যালে রেফার করেন। ঢাকা মেডিক্যালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে নর্দার্ন ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট শহিদুল হক জানান, এ ঘটনায় নিহতের পিতা শমসের আলী বাদী হয়ে গাংনী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী অফিসার গাংনী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুক্তার আলী তদন্তের পর আদালতে চার্জশিট প্রদান করেন। মামলায় মোট ১৪ জন সাক্ষী তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন। এতে আসামি আব্দুল আউয়াল দোষী প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে আট বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন। মামলায় আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম।
একাত্তর/জো
