চন্ডিকা হাথুরু সিংহে। যেখানেই যান বিতর্ক তার পিছু নেয়। ২০১৭ থেকে শুরু। রিয়াদ, সাকিব, মাশিরাফি থেকে, তামিম ইকবাল। বাংলাদেশের সিনিয়র ক্রিকেটারদের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন এই লংকান। শুধু বাংলাদেশ নয় শ্রীলংকাতেও একইভাবে সিনিয়র ক্রিকেটারদের সাথে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে।
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, দ্বিতীয় মেয়াদে বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার সময় সিনিয়র ক্রিকেটারদের সাথে নিজের সুসম্পর্কের কথা বড় গলায় বলেছিলেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। যে সুসম্পর্ক এতটাই দামী যে, পাচ মাস যেতে না যেতেই তার মূল্য চোখের অশ্রু দিয়ে চোকাতে হয় তামিমকে।
সিরিজ নয়, ক্যাপ্টেন্সি নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকেই বিদায় জানিয়ে দিয়েছিলেন দেশের অন্যতম সেরা এই ব্যাটার। হাথুরুসিংহে, কোচ হিসেবে সবাই তাকে চেনে কিন্তু ক্রিকেটারদের সাথে মতবিরোধের যে বিশাল একটা অধ্যায় চন্ডিকার ক্যারিয়ারে মিশে আছে, তা কজন জানে? চলুন দেখে আসি সেই অধ্যায়ের প্রতিটি পাতা। যেখানে মিশে আছে ক্রিকেটারদের লুকনো কান্না।
পেজ নাম্বার ওয়ান: বাংলাদেশের শততম টেস্টে মুখোমুখি হাথুরু-রিয়াদ
২০১৭র মার্চ। শ্রীলংকায় পূর্ণাঙ্গ সফরের আগে মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে বাধ সাধেন চন্ডিকা। সে দফায় মাশরাফির হস্তক্ষেপে রিয়াদ দলে ঢোকেন ঠিকই তবে প্রথম টেস্টে রান না পাওয়ায় রিয়াদকে দেশে ফেরত পাঠাতে উদ্যত হন হাথুরু। সেবার বিসিবি সভাপতি পাপনের অনুরোধে চন্ডিকা ক্ষান্ত হলেও বাংলাদেশের শততম টেস্টে রিয়াদকে আর খেলাননি এই টাইগার মাস্টারমাইণ্ড।
পেজ নাম্বার টু: টি-টোয়েন্টি থেকে মাশরাফির অবসরের নেপথ্য নায়ক
শুধু রিয়াদকে নিয়েই নয়, টি-টোয়েন্টিতে মাশরাফির গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন হাথুরু। পারফর্ম্যান্সের চেয়ে চন্ডিকার কাছে বড় হয়ে উঠেছিল মাশরাফির বয়স, তার ফিটনেস। ড্রেসিংরুমের এই আবহেই থামতে হয় মাশরাফিকে। শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টস করতে নামার সময় শর্টেস্ট ফরম্যাট থেকে ঘোষণা দিয়ে দেন নিজের অবসরের।
পেজ নাম্বার থ্রি: সাকিব-হাথুরু দ্বন্দ্ব
রিয়াদ-মাশরাফির পর হাথুরু রোষানলে পড়েন সাকিব আল হাসান। শ্রীলংকা সফরের ছয় মাস পরেই সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ থেকে ছুটি চান সাকিব। গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে সাকিবের এমন আবদারে ক্ষুব্ধ হন চন্ডিকা। প্রশ্ন তোলেন ক্রিকেটে সাকিবের নিবেদন নিয়ে।
পেজ নাম্বার ফোর: শ্রীলংকায় নতুন দায়িত্বে পুরনো রূপে হাথুরু
২০১৭ তে নাটকীয়ভাবে বাংলাদেশ ছাড়ার পর হাথুরু দায়িত্ব নেন শ্রীলংকা জাতীয় দলের। তবে এখানেও সিনিয়র ক্রিকেটারদের সাথে জড়িয়ে পড়েন দ্বন্দ্বে। বিশেষ করে ২০১৮ এশিয়া কাপে ব্যর্থতার সব দায় হাথুরু চাপিয়ে দেন ক্যাপ্টেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজসের উপর। আর এই রেষারেষিতেই দিনকে দিন ফর্ম হারিয়ে জাতীয় দলে জায়গাটা দুর্বল করে ফেলেন অ্যাঞ্জেলো।
আরও পড়ুন: তামিমের অবসর ঘোষণা মানতে পারেননি মাশরাফী
তামিমের বিদায় স্থায়ী হলে বাংলাদেশ দলে সিনিয়রদের মধ্যে বাকি থাকতেন কেবল দুজন সাকিব আল হাসান আর মুশফিকুর রহিম। বিশ্বকাপের বাকি তিন মাস। অভিজ্ঞদের ছেটে তারুণ্য নির্ভর দল নিয়ে হাথুরুর যে পরিকল্পনা, তা কতটা সফল হবে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
একাত্তর/এসি
