নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এশিয়ান হাইওয়ে ও ঢাকা-সিলেট সড়কের পাশে ময়লা ফেলে তা ভাগাড়ে পরিণত করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের নিষেধসহ বাধা উপেক্ষা করে প্রতিদিন ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। এর উৎকট দুর্গন্ধ আর প্রতিদিনের দুর্ভোগে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন শিক্ষার্থী, পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীরা। শুধু তাই নয়, এসব ময়লা আবর্জনা থেকে ছড়াচ্ছে বিভিন্ন রোগ বালাইও।
সরেজমিন ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়কের সংযোগস্থল উপজেলার ভুলতা গোলাকান্দাইল এলাকায় গিয়ে দুর্ভোগের এমন চিত্র দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে দক্ষিনাঞ্চলগামী সব মালবাহী ট্রাক ও ঢাকা থেকে সিলেটগামী যাত্রীবাহী বাস এই সড়ক দিয়ে চলে। এখানে গড়ে উঠেছে দেশের সর্ববৃহৎ পাইকারি বাজার গাউছিয়া মার্কেটসহ কয়েকটি শপিংমল, পাইকারি কাচা বাজার, মাছের আড়ৎ । রয়েছে ১০টি সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক, সাতটি বেসসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও বিভিন্ন শিল্প কারখানা।
তারা জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় রূপগঞ্জসহ আশেপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষ চিকিৎসা সেবা, আর্থিক লেনদেন ও কেনাকাটার জন্য প্রতিদিন এখানে আসেন।
তাদের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে ভুলতা উড়াল সেতুর নিচে সড়কের গোলাকান্দাইলে এলাকায় সড়কের ওপর ইচ্ছে মতো ফেলা হচ্ছে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল, কর্কশিট, কার্টন, কাগজ, পলিথিন, বস্তা, মেডিক্যাল বর্জ্য, বাসা-বাড়িসহ হোটেল রেস্তোঁরার আবর্জনা। ফেলে যাওয়া বর্জ্য এখন সড়কে বেশিরভাগ জায়গা দখল করে আছে। এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল ভাগাড়। দিন দিন এর পরিধি বাড়ছে। এই ময়লা থেকে ছড়াচ্ছে বিভিন্ন রোগ বালাই। বৃষ্টি হলে সড়কগুলোতে ময়লা ভেসে উঠে এলাকায় একাকার হয়ে যায়।
তারা বলেন, ময়লার দুর্গন্ধে শিক্ষার্থীসহ এ রোডে চলাচলরত পথচারী ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দিনের পর দিন এই দুর্ভোগ পোহাতে তারা অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন।
কয়েকজন পথচারী জানান, এই ময়লার দুর্গন্ধে রাস্তায় নাকে রুমাল বা কাপড়ে চেপে চলতে হয়। তাদের দাবি, সড়কের বেশির ভাগ অংশ দখলে থাকা ময়লা দ্রুত সরিয়ে এই এলাকার পরিবেশ ঠিক রাখতে হবে।
এবিষয়ে গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান ভুঁইয়া বলেন, আমাদের ময়লা ফেলার জন্য কোনো ডাম্পিং স্টেশন নেই। উপজেলা সমন্বয় কমিটির মিটিংয়ে ময়লার বিষয়টি উপস্থাপন করেছি। আমি পরিষদ থেকে লোক নিয়োগ করবো যাতে করে কেউ এসব ময়লা না ফেলতে পারে।
আরও পড়ুন: বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপরে তিস্তার পানি
এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান ভুঁইয়া বলেন, এখানে কয়েকটি হাসপাতাল, মাকের্ট আছে। সেখান থেকে প্রচুর বর্জ্য রাস্তা এখানে ফেলা হয়। মার্কেটগুলোর মালিক সমিতির লোকজনদের ডেকে মিটিং করে বলেছি যাতে তারা রাস্তার মধ্যে বর্জ্য না ফেলে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বলবো। তারা যদি না বর্জ্য সরানোর ব্যয় বহন করতে না পারে তাহলে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এর ব্যয়সহ সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।
একাত্তর/এসি
